১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে জয়যুক্ত হলে বরিশালবাসীর আস্থার প্রতিদান দিতে চান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ দুইদশকেরও বেশী সময় পর বরিশালে বিএনপির বিভাগীয় জনসমাবেশে তিনি যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছেন, সেগুলো বাস্তবায়নযোগ্য বলেই মনে করছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের বক্তব্যে উঠে এসেছে অতীত অভিজ্ঞতা, পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং বিএনপির শাসনামলের নানা উদাহরণ।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের বেলস পার্কে বিএনপির বিভাগীয় জনসমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচিত হলে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নই হবে দলের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ১৩ তারিখ থেকেই দেশ পুনর্গঠনের কাজ শুরু করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খাল খনন, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নসহ অনেক কাজ করতে হবে। ক্ষমতায় গেলে গৃহিণীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা, কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, নদীভাঙন রোধ, ভোলা-বরিশাল সেতুর কাজ বাস্তবায়ন, ভোলায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপন এবং বিভিন্ন রুটে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি জনগণের ভোটে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার কথাও তুলে ধরেন। এরপর তারেক রহমান বরিশালের ২১ আসনের প্রার্থীদের মঞ্চে উঠিয়ে সকলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
সমাবেশে অংশ নেওয়া বরিশাল নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতা মোসলেম গাজী বলেন, তারেক রহমান শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি একটি রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধি।
তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার পর দেশকে নতুন দিশা দিয়েছেন। আর তার মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখিয়েছেন কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হয়। এই পরিবার জানে রাষ্ট্র চালাতে হয় কীভাবে।
বরিশালের মহিপুর থেকে আসা প্রবীণ সমর্থক মাহতাব ভুইয়া বলেন, অতীতে বিএনপি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার অনেকটাই বাস্তবায়ন করেছে। গ্রামগঞ্জে সড়ক নির্মাণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, কৃষিতে ভর্তুকি সবই মানুষ চোখে দেখেছে। সেই ধারাবাহিকতার কারণেই তারেক রহমানের কথায় আমরা আস্থা রাখছি। তিনি আমাদের আস্থার প্রতীক।
বাবুগঞ্জ থানার এক তরুণ সমর্থক তসলিম মিয়া বলেন, আমরা রাজনীতি দেখি ভবিষ্যতের জন্য। তারেক রহমান তরুণদের কথা বলেছেন, চাকরি ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরির কথা বলেছেন। এ কারণেই তরুণ প্রজন্ম তার নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি সবসময় আমাদের পাশে থাকবেন।
সমাবেশে অংশ নেওয়া পটুয়াখালীর কলাপাড়া থেকে আসা আরিফা খাতুন বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে নারীদের শিক্ষা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে করা হয়েছিল। বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে নারী শিক্ষার মান আরও বাড়বে বলে আমরা বিশ্বাস করি। নারীরা মর্যাদা পাবে, আর ভবিষ্যতে নারী-পুরুষ সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গঠনে কাজ করতে পারবে।
বরিশাল সদরের স্থানীয় নাগরিক কবির হাওলাদার বলেন, বরিশাল দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। সমাবেশে তারেক রহমান যেভাবে আমাদের সমস্যাগুলোর কথা বলেছেন, তাতে মনে হয়েছে তিনি বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত এবং সেগুলোর সমাধানে তার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীরাও বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ, খালেদা জিয়ার অভিজ্ঞতা এবং তারেক রহমানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা মিলিয়ে বিএনপি আবারও জনগণের প্রত্যাশার জায়গায় পৌঁছাবে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তাদের ভাষ্য, অতীত অভিজ্ঞতার কারণেই বরিশালবাসী শুধু আশ্বাস নয়, প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চায়। আর সেই বিশ্বাস থেকেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ।
সাব্বির আলম বাবু
বিশেষ প্রতিনিধি
০১৭১৬২৯৪৪
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ: চেয়ারম্যান : গোলাম কিবরিয়া, ব্যবস্থাপনাপরিচালক : ফয়সাল শিকদার, বার্তা সম্পাদক : ইয়াছমিন আক্তার, ঠিকানা : চৌধুরী সুপার মার্কেট, এস এ গনি রোড, বারেশ্বর চৌমুনি, বুড়িচং, কুমিল্লা।
মোবাইল : +৮৮ ০১৮০৬৬০৮৫৩৩, +৮৮ ০১৯৪৮৭২৭৫৬১ , +৮৮ ০১৬৪১৬৯০৮১৬ -০১৮৬৮২৩৫১৬১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত