মোঃ আসলাম বেপারী
পারিবারিক জীবনের চূড়ান্ত এবং বেদনাদায়ক পরিণতি হলো বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাক। যদিও এটি একটি বৈধ প্রক্রিয়া, কিন্তু সামাজিকভাবে এর প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও নেতিবাচক। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে বিবাহ বিচ্ছেদের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার পেছনে অস্বাভাবিক মোহরানা বা কাবিন একটি অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতির মূল চ্যালেঞ্জসমূহ:
মোহরানাকে আয়ের উৎস ভাবা: অনেক ক্ষেত্রে কাবিনের মোটা অংকের টাকাকে একধরণের ‘নিরাপত্তা’ বা ‘আর্থিক লাভ’ হিসেবে দেখা হয়। এর ফলে তুচ্ছ কারণেও বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়ে যায়।
আবেগ বনাম বাস্তবতা: ৪-৫ লক্ষ টাকা কাবিন ধার্য করা হলেও বিচ্ছেদের সময় তা পরিশোধ করতে গিয়ে পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। অথচ বিচ্ছেদের পর সেই টাকা দিয়ে একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ কতটুকু সুরক্ষিত হয়, তা নিয়ে অভিভাবকরা ভাবছেন না।
ভুল বুঝাবুঝি ও একঘেয়েমি: অনেক সময় বাবা-মা সন্তানকে শাসন বা সঠিক পরামর্শ না দিয়ে বিচ্ছেদের পথে ঠেলে দেন, যা মেয়েটির জীবনকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
প্রস্তাবিত সমাধান ও মতামত:
১. মোহরানা যৌক্তিক পর্যায়ে আনা: অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা গেছে, যদি কাবিনের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা নির্ধারণ করা হয় (সরকারিভাবে বা সামাজিকভাবে), তবে বিচ্ছেদের হার প্রায় ৬০% থেকে ৭০% কমে আসতে পারে। কারণ তখন আর্থিক লোভের চেয়ে সম্পর্কের গুরুত্ব বেশি প্রাধান্য পাবে।
২. পারিবারিক সচেতনতা: বিচ্ছেদের পর একটি মেয়ের সামাজিক ও মানসিক অবস্থা কী হতে পারে, তা নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া জরুরি। বিচ্ছেদই একমাত্র সমাধান নয়, বরং মানিয়ে নেওয়া এবং ধৈর্য ধারণের শিক্ষাই দীর্ঘস্থায়ী সুখের চাবিকাঠি।
৩. সামাজিক মধ্যস্থতা: পাড়া-মহল্লা বা গ্রাম পর্যায়ে বিবাদ মেটানোর জন্য শক্তিশালী সামাজিক কমিটি থাকা প্রয়োজন, যারা কেবল আইনি নয়, বরং আবেগীয় বন্ধন পুনরুদ্ধারে কাজ করবে।
উপসংহার
আজকে০৬-০১-২৫ইংএকটি অমীমাংসিত ঘটনার কথাই ধরা যাক—যেখানে চার লক্ষ টাকা কাবিন পরিশোধের মাধ্যমে একটি সম্পর্কের ইতি ঘটল। মাধ্যম আমি নিজেই মোঃ আসলাম বেপারী।
মেয়েটি বা তার পরিবার সাময়িক অর্থ পেলেও, বিচ্ছেদের দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি বা সামাজিক নিরাপত্তা সম্পর্কে তারা কতটা সচেতন? টাকা কখনোই একটি সুন্দর সংসারের বিকল্প হতে পারে না।
আসুন, আমরা আভিজাত্যের লড়াই বাদ দিয়ে সুস্থ ও টেকসই পারিবারিক কাঠামোর দিকে নজর দিই।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ: চেয়ারম্যান : গোলাম কিবরিয়া, ব্যবস্থাপনাপরিচালক : ফয়সাল শিকদার, বার্তা সম্পাদক : ইয়াছমিন আক্তার, ঠিকানা : চৌধুরী সুপার মার্কেট, এস এ গনি রোড, বারেশ্বর চৌমুনি, বুড়িচং, কুমিল্লা।
মোবাইল : +৮৮ ০১৮০৬৬০৮৫৩৩, +৮৮ ০১৯৪৮৭২৭৫৬১ , +৮৮ ০১৬৪১৬৯০৮১৬
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত