মোঃ মোসলেম উদ্দিন সিরাজী
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
সরিষা ফুলে ভরে উঠেছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ। শীত মৌসুমের শুরুতেই এসব সরিষা জমিতে স্থাপন করা হয়েছে মৌ চাষীদের মধু সংগ্রহের বাক্স। ফলে পুরো এলাকায় এখন মধু উৎপাদন কে ঘিরে বাড়ছে কর্মচাঞ্চল্য।
সরিষা চাষের দিক থেকে দেশের শীর্ষ উপজেলা হওয়ায় প্রতি বছরই উল্লাপাড়া মৌ চাষীদের কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উল্লাপাড়ায় ২৪ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হচ্ছে।
এ থেকে প্রায় ৪৩ হাজার ৫৮ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উধুনিয়া, বড় পাঙ্গাসী, লাহিড়ী মোহনপুর, বাঙ্গালা, সলঙ্গা, পূর্ণিমাগাঁতী, কয়ড়া ও দুর্গানগর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি সরিষা চাষ হয়েছে। সরিষা গাছে ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মৌ চাষীরা উল্লাপাড়ায় এসে তাদের মৌ বাক্স বসিয়েছেন। গত এক সপ্তাহে শতাধিক মৌ খামারি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মধু সংগ্রহের বাক্স স্থাপন করেছেন।
বর্তমানে মাঠে ১০ হাজারের বেশি মৌ বাক্স রয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাবে, মৌসুম শেষে এই সংখ্যা প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজারে পৌঁছাতে পারে। প্রতিটি মৌ বাক্স থেকে গড়ে ১৩ থেকে ১৫ কেজি মধু সংগ্রহ করা সম্ভব।
এই হিসাবে চলতি মৌসুমে উল্লাপাড়া উপজেলায় প্রায় দুই লাখ কেজি বা ২০০ মেট্রিক টন মধু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিষয়ে একজন স্থানীয় মৌ খামারি মোঃ হারুন অর রশিদ তিনি বলেছেন, আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হয়ে ও আমি কোনো পেশাকে ছোট করে না দেখে শুধু মাত্র তরুণদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য নিজস্ব তত্ত্বাবধানে রেখে বেশ কিছু মৌ খামারি কে এই পেশায় নিয়োজিত করার জন্য উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি এবং শিক্ষিত বেকার তরুণদের মধুর ব্যবসা করতে আগ্রহ তৈরি করে যাচ্ছি। এবং আমি নিজেও আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধবদের মাঝে সল্প লাভে খাঁটি এবং কোয়ালিটি সম্পন্ন মধু তুলে দিয়েছি। এছাড়াও আমার পরামর্শে বেশ কয়েকজন তরুণ মৌ খামার ও মধু ব্যবসায়ী আমার সাথে যুক্ত হয়েছেন। এই বিষয়ে শিক্ষক মোঃ হারুন অর রশীদ স্যার আরো বলেছেন, আমার তত্ত্বাবধানে যে মৌ খামার গুলো রয়েছে সেগুলো - উধুনিয়া সঞ্চিত মৌ খামার, মনিরুল মৌ খামার, সুজন মৌ খামার, জহুরুল মৌ খামার এছাড়াও ঘোলারিয়া গ্রামে রয়েছে মিনারুল মৌ খামার। তাদের সকলের সাথে কথা বলে জানতে চাইলে তারা জানিয়েছেন প্রথম দিকে ৫-৬ দিনের মধ্যে মধু কালেকশন করলেও হারুন অর রশীদ স্যারের পরামর্শে এখন ১০-১২ দিন পরপর মধু কালেকশন করি। এতে করে মধুর গুনগত মান যথেষ্ট ভালো পাওয়া যাচ্ছে এবং মধুর দামও একটু বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে উল্লাপাড়ার লাহিড়ী মোহনপুরে জাইকার অর্থায়নে মধু প্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপিত হওয়ায় মৌ চাষীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। উপজেলা মৌ চাষী সমবায় সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান শিহাব ও সাধারণ সম্পাদক ছোরমান আলী বলেছেন, এই প্ল্যান্টে প্রতিদিন প্রায় এক মেট্রিক টন মধু পরিশোধন করা যাবে। এতে করে মৌ চাষীদের উৎপাদিত মধু প্রক্রিয়াজাত করতে অন্য এলাকায় যেতে হবে না। এই বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী স্যার বলেছেন, উপজেলা পর্যায়ে সরিষা উৎপাদনে উল্লাপাড়ার অবস্থান দেশের শীর্ষে। সরিষার ব্যাপক আবাদ হওয়ায় এখানে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মধু উৎপাদিত হয়। তিনি আরো বলেছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে উল্লাপাড়ায় উৎপাদিত মধুর বাজারমূল্য আরো বেশি পেতে পারে।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ: চেয়ারম্যান : গোলাম কিবরিয়া, ব্যবস্থাপনাপরিচালক : ফয়সাল শিকদার, বার্তা সম্পাদক : ইয়াছমিন আক্তার, ঠিকানা : চৌধুরী সুপার মার্কেট, এস এ গনি রোড, বারেশ্বর চৌমুনি, বুড়িচং, কুমিল্লা।
মোবাইল : +৮৮ ০১৮০৬৬০৮৫৩৩, +৮৮ ০১৯৪৮৭২৭৫৬১ , +৮৮ ০১৬৪১৬৯০৮১৬
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত