০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬

বেলজিয়াম হাঁস খামারে বছরে ২৪ লাখ আয় সিংড়ার জাহিদের সাফল্যের গল্প

  • প্রকাশের সময় : ০২:২০:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • 257

মোঃ ইব্রাহিম আলী, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়ায় বেলজিয়াম জাতের হাঁস পালন ও হ্যাচারী ব্যবসায় ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন নুরপুর গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা জাহিদ হাসান। একসময় ৮ লাখ টাকার ঋণের বোঝায় দিশেহারা জাহিদ আজ নিজ উদ্যোগেই বছরে আয় করছেন ২৪ লাখ টাকারও বেশি।

প্রায় ৭–৮ বছর আগে শুরু হওয়া জাহিদের পথচলা সহজ ছিল না। হতাশার মুহূর্তে তার পাশে দাঁড়ান প্রবাসী দুলাভাই আবু হাসান। দুলাভাইয়ের উৎসাহ ও আর্থিক সহযোগিতায় ১০০টি বেলজিয়াম হাঁস কিনে যাত্রা শুরু করেন তিনি। সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু।

এখন জাহিদ শুধু হাঁস খামারেই সীমাবদ্ধ নন। নুরপুর বাজারে প্রতিষ্ঠা করেছেন আধুনিক বাচ্চা ফুটানোর হ্যাচারী চলনবিল হ্যাচারী। খামার ও হ্যাচারী উভয় ক্ষেত্রেই তার পার্টনার দুলাভাই আবু হাসান। বর্তমানে তাদের হাঁসের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৫০০টি।

জাহিদ জানান, বেলজিয়াম জাতের হাঁস দ্রুত বাড়ে এবং লাভজনক।৪৫ দিনেই একটি হাঁসের ওজন ৩ কেজি হয়।পরিপক্ব হলে ওজন দাঁড়ায় ৪–৫ কেজি,একটি ডিম বিক্রি হয় ৪০–৮০ টাকা,একটি বাচ্চা বিক্রি হয় ১৫০ টাকা,চাহিদা বেশি হওয়ায় স্বল্প সময়ে হাঁস ও ডিম বিক্রি করে ভালো লাভ পাওয়া যায়। খামার ও হ্যাচারী মিলিয়ে তার মাসিক আয় এখন প্রায় দুই লাখ টাকা।

জাহিদের অনুপ্রেরণায় এলাকায় বহু বেকার যুবক এখন বেলজিয়াম হাঁস পালনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

সিংড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাশরিফুল ইসলাম বলেন,
তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা সব ধরনের পরামর্শ, ভ্যাকসিন ও টেকনিক্যাল সহায়তা বিনামূল্যে প্রদান করি। উপজেলায় বেলজিয়াম জাতের বড় খামার সংখ্যা বাড়ছে, ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী।

সাফল্যের এই গল্প শুধু জাহিদের নয়—এটি সিংড়ার যুব সমাজের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।

জনপ্রিয়

নওগাঁয় মাদক’বিরোধী অভি’যানে গাঁ’জার গাছসহ এক ব্যক্তি গ্রেফ’তার

বেলজিয়াম হাঁস খামারে বছরে ২৪ লাখ আয় সিংড়ার জাহিদের সাফল্যের গল্প

প্রকাশের সময় : ০২:২০:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

মোঃ ইব্রাহিম আলী, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়ায় বেলজিয়াম জাতের হাঁস পালন ও হ্যাচারী ব্যবসায় ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন নুরপুর গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা জাহিদ হাসান। একসময় ৮ লাখ টাকার ঋণের বোঝায় দিশেহারা জাহিদ আজ নিজ উদ্যোগেই বছরে আয় করছেন ২৪ লাখ টাকারও বেশি।

প্রায় ৭–৮ বছর আগে শুরু হওয়া জাহিদের পথচলা সহজ ছিল না। হতাশার মুহূর্তে তার পাশে দাঁড়ান প্রবাসী দুলাভাই আবু হাসান। দুলাভাইয়ের উৎসাহ ও আর্থিক সহযোগিতায় ১০০টি বেলজিয়াম হাঁস কিনে যাত্রা শুরু করেন তিনি। সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু।

এখন জাহিদ শুধু হাঁস খামারেই সীমাবদ্ধ নন। নুরপুর বাজারে প্রতিষ্ঠা করেছেন আধুনিক বাচ্চা ফুটানোর হ্যাচারী চলনবিল হ্যাচারী। খামার ও হ্যাচারী উভয় ক্ষেত্রেই তার পার্টনার দুলাভাই আবু হাসান। বর্তমানে তাদের হাঁসের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৫০০টি।

জাহিদ জানান, বেলজিয়াম জাতের হাঁস দ্রুত বাড়ে এবং লাভজনক।৪৫ দিনেই একটি হাঁসের ওজন ৩ কেজি হয়।পরিপক্ব হলে ওজন দাঁড়ায় ৪–৫ কেজি,একটি ডিম বিক্রি হয় ৪০–৮০ টাকা,একটি বাচ্চা বিক্রি হয় ১৫০ টাকা,চাহিদা বেশি হওয়ায় স্বল্প সময়ে হাঁস ও ডিম বিক্রি করে ভালো লাভ পাওয়া যায়। খামার ও হ্যাচারী মিলিয়ে তার মাসিক আয় এখন প্রায় দুই লাখ টাকা।

জাহিদের অনুপ্রেরণায় এলাকায় বহু বেকার যুবক এখন বেলজিয়াম হাঁস পালনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

সিংড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাশরিফুল ইসলাম বলেন,
তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা সব ধরনের পরামর্শ, ভ্যাকসিন ও টেকনিক্যাল সহায়তা বিনামূল্যে প্রদান করি। উপজেলায় বেলজিয়াম জাতের বড় খামার সংখ্যা বাড়ছে, ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী।

সাফল্যের এই গল্প শুধু জাহিদের নয়—এটি সিংড়ার যুব সমাজের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।