০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

মুন্সিগঞ্জ আ.লীগের আমলে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে প্রভাববিস্তার বিপ্লবের তলব

  • প্রকাশের সময় : ০৬:১৭:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • 79

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি 

মুন্সিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মহিউদ্দিন আহমেদ স্বৈরাচারের পুত্র সাবেক এমপি ফয়সাল বিপ্লব রাজনীতি প্রতিহিংসায় আওয়ামী লীগের আমলে রাজনৈতিকপ্রভাবে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল পাল সাম্রাজ্যের নানা অপকর্মের অভিযোগ।

গত ২০২৪ গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অইদিন সকাল পৌনে ১০টার দিকে ছাত্র-জনতা শহরের সুপারমার্কেট চত্বরে সাবেক এমপি ফয়সাল নির্দেশে অস্ত্রধারী সাজ্জাদ হোসেন সাগর নেতৃত্বে কিশোর গ্যাংরা শিক্ষার্থীদের উপর হামলার জন্য অস্ত্র-ককটেল লাঠিসোঁটা নিয়ে শহরে প্রবেশ করেন ২-৩ হাজার দলীয় নেতাকর্মী ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা অনুসারীরা।

ও-ই সময় শহরে গেলে পুলিশের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শিক্ষার্থীদের পেটাতে শুরু করেন। অন্যদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে গ্যাসের শেল ও ছররা গুলি ছোড়ে পুলিশ। গুলিতে উত্তর ইসলামপুরের রিয়াজুল ফরাজী, সজল মোল্লা ও নুর মোহাম্মদ মারা যান। এতে দেড় শতাধিক আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ আহত হন সাংবাদিকরাসহ।

এছাড়াও সাবেক এমপি ফয়সাল বিপ্লব প্রতিহিংসায় আওয়ামী লীগের স্বৈরাচার আমলে নিজ বাড়িতে শহরে গড়ে তোলেন কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে নিজ নিজ এলাকা ভাগ করে দিয়ে চালাতেন ভয়াবহ দুঃশাসন মামলা বানিজ্য ক্ষমতার জুলুম অত্যাচার, দুর্নীতি, গুম, খুন, চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, ক্যাডার বাহিনী নিয়ন্ত্রন অনিয়মসহ নিজ দলের রাজনীতিবিদদের ঘায়েল প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা, অস্ত্র বানিজ্য, গণধর্ষণ অপহরণ নানা এমন কোন অপকর্ম তারা করেননি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সন্ত্রাস আর ত্রাসের পেশির জোরে প্রাচ্যের ড্যান্ডি খ্যাত ক্যাডাররা।

স্থানীয় সাধারণ মানুষরা বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে সাধারণ মানুষ স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারেনি। বিগত ১৭ বছরেও দুর্নীতি, দুঃশাসন, লুটপাট, বিরোধী মতের লোকদের দমন-পীড়ন করেছে। ওরা কখনো সাধারণ মানুষের জন্য রাজনীতি করেনি। তারা সব সময় প্রভাব বিস্তার, লুটপাট ও মানুষকে জিম্মি করে ক্ষমতায় ছিল। আওয়ামী লীগ অত্যাচারিত ও খুনির দল। এজন্যই জুলাই আন্দোলনে মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদেরকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। এখন শুধু ফ্যাসিস্ট হাসিনাদের বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ।

এর আগে গত চলতি বছরের ২২ জুন রাজধানীর মনিপুরীপাড়ার একটি বাসা থেকে মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে যুবদল নেতা শামীম হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশে কেরানীগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয় পরবর্তীতে (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে মুন্সিগঞ্জ সদর আমলি আদালতে তাকে হাজির করালে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এবিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মামলা আছে কিনা, তা দেখার দরকার নেই। তাদের দেখার সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে এনির্দেশ দেন।

জনপ্রিয়

কুমিল্লায় পাহাড় কাটায় এক মামলায় ৮ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, এক্সকেভেটর জব্দ

মুন্সিগঞ্জ আ.লীগের আমলে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে প্রভাববিস্তার বিপ্লবের তলব

প্রকাশের সময় : ০৬:১৭:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি 

মুন্সিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মহিউদ্দিন আহমেদ স্বৈরাচারের পুত্র সাবেক এমপি ফয়সাল বিপ্লব রাজনীতি প্রতিহিংসায় আওয়ামী লীগের আমলে রাজনৈতিকপ্রভাবে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল পাল সাম্রাজ্যের নানা অপকর্মের অভিযোগ।

গত ২০২৪ গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অইদিন সকাল পৌনে ১০টার দিকে ছাত্র-জনতা শহরের সুপারমার্কেট চত্বরে সাবেক এমপি ফয়সাল নির্দেশে অস্ত্রধারী সাজ্জাদ হোসেন সাগর নেতৃত্বে কিশোর গ্যাংরা শিক্ষার্থীদের উপর হামলার জন্য অস্ত্র-ককটেল লাঠিসোঁটা নিয়ে শহরে প্রবেশ করেন ২-৩ হাজার দলীয় নেতাকর্মী ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা অনুসারীরা।

ও-ই সময় শহরে গেলে পুলিশের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শিক্ষার্থীদের পেটাতে শুরু করেন। অন্যদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে গ্যাসের শেল ও ছররা গুলি ছোড়ে পুলিশ। গুলিতে উত্তর ইসলামপুরের রিয়াজুল ফরাজী, সজল মোল্লা ও নুর মোহাম্মদ মারা যান। এতে দেড় শতাধিক আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ আহত হন সাংবাদিকরাসহ।

এছাড়াও সাবেক এমপি ফয়সাল বিপ্লব প্রতিহিংসায় আওয়ামী লীগের স্বৈরাচার আমলে নিজ বাড়িতে শহরে গড়ে তোলেন কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে নিজ নিজ এলাকা ভাগ করে দিয়ে চালাতেন ভয়াবহ দুঃশাসন মামলা বানিজ্য ক্ষমতার জুলুম অত্যাচার, দুর্নীতি, গুম, খুন, চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, ক্যাডার বাহিনী নিয়ন্ত্রন অনিয়মসহ নিজ দলের রাজনীতিবিদদের ঘায়েল প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা, অস্ত্র বানিজ্য, গণধর্ষণ অপহরণ নানা এমন কোন অপকর্ম তারা করেননি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সন্ত্রাস আর ত্রাসের পেশির জোরে প্রাচ্যের ড্যান্ডি খ্যাত ক্যাডাররা।

স্থানীয় সাধারণ মানুষরা বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে সাধারণ মানুষ স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারেনি। বিগত ১৭ বছরেও দুর্নীতি, দুঃশাসন, লুটপাট, বিরোধী মতের লোকদের দমন-পীড়ন করেছে। ওরা কখনো সাধারণ মানুষের জন্য রাজনীতি করেনি। তারা সব সময় প্রভাব বিস্তার, লুটপাট ও মানুষকে জিম্মি করে ক্ষমতায় ছিল। আওয়ামী লীগ অত্যাচারিত ও খুনির দল। এজন্যই জুলাই আন্দোলনে মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদেরকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। এখন শুধু ফ্যাসিস্ট হাসিনাদের বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ।

এর আগে গত চলতি বছরের ২২ জুন রাজধানীর মনিপুরীপাড়ার একটি বাসা থেকে মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে যুবদল নেতা শামীম হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশে কেরানীগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয় পরবর্তীতে (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে মুন্সিগঞ্জ সদর আমলি আদালতে তাকে হাজির করালে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এবিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মামলা আছে কিনা, তা দেখার দরকার নেই। তাদের দেখার সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে এনির্দেশ দেন।