
মো: গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র কৌতূহল ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, ব্যস্ত রাস্তার পাশে এক যুবক অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও ভারসাম্যহীন ভঙ্গিতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে আছেন। তার নড়াচড়া এবং চারপাশের পরিবেশের প্রতি চরম উদাসীনতা দেখে নেটিজেনদের অনেকেই একে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ছড়িয়ে পড়া তথাকথিত ‘জম্বি ড্রাগস’-এর প্রভাব বলে আশঙ্কা করছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
ঘটনাটি মূলত রাজশাহীর বাটার মোড় এলাকা এবং টঙ্গীর ব্যস্ত সড়কে প্রত্যক্ষ করা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই যুবকদের দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় স্থির হয়ে অস্বাভাবিকভাবে ঝিমুতে দেখা যায়, যা সাধারণ নেশার চেয়ে অনেকটাই ভিন্ন এবং ভীতিকর। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে—ভয়ংকর এই মাদক কি তবে বাংলাদেশেও থাবা বসালো?
নেটিজেনদের দাবি ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘জম্বি ড্রাগস’ বা ‘জাইলাজিন’ (Xylazine) নামক এক ধরণের বিষাক্ত নেশার বিস্তার ঘটেছে, যা ব্যবহারের পর মানুষ অনেকটা জীবন্ত লাশের মতো আচরণ করে। ভারতের কিছু অংশে এর ব্যবহারের খবর আসায় বাংলাদেশের নেটিজেনরা এই ভিডিওর সঙ্গে তার যোগসূত্র খুঁজছেন। জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে যে, সীমান্ত পেরিয়ে এই মরণঘাতী বিষ এখন দেশের তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে কিনা।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ ও অনিশ্চয়তা
বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল ভিডিও দেখে একে ‘জম্বি ড্রাগস’ বলা সমীচীন হবে না। তাদের মতে, এই ধরণের শারীরিক অবস্থার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে:
নতুন সিনথেটিক ড্রাগস: উচ্চ মাত্রার কোনো সিনথেটিক মাদক বা নতুন কোনো রাসায়নিক উপাদানের প্রভাব।
মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা: তীব্র মানসিক ব্যাধি বা স্নায়বিক কোনো জটিলতা।
শারীরিক অসুস্থতা: দীর্ঘমেয়াদী অপুষ্টি বা শরীর অবশ হয়ে যাওয়ার মতো কোনো রোগ।
প্রশাসনের ভূমিকা ও জননিরাপত্তা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলেও, ভিডিওতে দৃশ্যমান যুবকদের পরিচয় বা তাদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য মেলেনি। স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
উপসংহার:
রাস্তায় কারো এমন অস্বাভাবিক আচরণ দেখলেই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এটি সত্যিই কোনো মাদকের মরণকামড় নাকি নিছক শারীরিক সমস্যা, তা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
সতর্কবার্তা: মাদক কেবল ব্যক্তিকে নয়, পুরো পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে। যেকোনো ধরণের সন্দেহজনক মাদক কারবার বা অস্বাভাবিক ঘটনা দেখলে নিকটস্থ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করুন।



















