১১:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

দলিল রেজিস্ট্রেশনের জটিলতা কমাতে ফেসবুকে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শাহজাদপুরের সাব-রেজিস্ট্রার রবিউল ইসলামের

  • প্রকাশের সময় : ১০:০৫:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • 25

​মোঃ মোসলেম উদ্দিন সিরাজী সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

​জমিজমা ক্রয়-বিক্রয় ও দলিল রেজিস্ট্রেশন নিয়ে সাধারণ মানুষের নানা প্রশ্ন, ভ্রান্ত ধারণা ও আইনি জটিলতা রয়েছে। দলিলের খরচ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া কিংবা আইনগত সঠিক তথ্য না জানার কারণে অনেকেই বিড়ম্বনায় পড়েন। সাধারণ মানুষকে এই সব বিষয়ে সহজ ধারণা দিতে সরকারি দাপ্তরিক সেবার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ রবিউল ইসলাম। ​শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে আসা সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমি ও দলিল-সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে থেকে সরাসরি প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাচ্ছেন তারা। কোনো বিষয় বুঝতে অসুবিধা হলে তিনি অত্যন্ত সহজ ভাষায় বোঝান, এমনকি প্রয়োজনে কাগজে লিখেও বিষয়টি বুঝিয়ে দেন। সরকারি সেবার পাশাপাশি ‘Rabiul Islam’ নামের নিজস্ব ফেসবুক পেজে দলিল রেজিস্ট্রেশনের ব্যয়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জমি-সংক্রান্ত নানা বিষয়ে শিক্ষণীয় ভিডিও প্রকাশ করেছেন তিনি। মাঝে মধ্যে ফেসবুকে লাইভে এসে সরাসরি আইনি পরামর্শ ও প্রশ্নের সমাধানও দিচ্ছেন। ​এর ফলে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই দলিল রেজিস্ট্রেশনের সম্ভাব্য খরচ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নিয়ে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারছেন। এতে কার্যলয়ে অ-প্রয়োজনীয় ভিড় কমেছে। তবে অনলাইন ভিত্তিক এই উদ্যোগ চালাতে গিয়ে তাকে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে নানা প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতার মুখোমুখিও হতে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও সেবা বন্ধ করেননি তিনি। বর্তমানে তাঁর ফেসবুক পেজে ২ লাখেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে এবং তথ্যভিত্তিক এই সেবার কারণে দিন দিন তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ​সেবা নিতে আসা শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের ছোট মহারাজপুর গ্রামের মোঃ নায়েব আলী বলেছেন, “বোনদের কাছ থেকে জমি রেজিস্ট্রি করার সময় পিতা-মাতার নামের বানানে জটিলতা দেখা দিয়েছিলো। পরে সাব-রেজিস্ট্রার কর্মকর্তার পরামর্শে কোনো হয়রানি ছাড়াই সহজে দলিল রেজিস্ট্রি করতে পেরেছি। এছাড়া সাব-রেজিস্ট্রার কর্মকর্তার
ফেসবুক ভিডিও দেখে আমার নিজস্ব আরো কিছু জমির জটিলতার সমাধান পেয়েছি।” ​শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের দলিল লেখক মোঃ আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, “বর্তমান সময়ে নির্ভুল দলিল রেজিস্ট্রি করতে নানা জটিলতায় পড়তে হয়। সেক্ষেত্রে সাব-রেজিস্ট্রার কর্মকর্তার কাছে থেকে সহজে পরামর্শ পাওয়ায় নির্ভুলভাবে কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে।” ​দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মোঃ সেলিম ইউসুফ বলেছেন, “দলিল রেজিস্ট্রির বিভিন্ন সময়ে নানা আইনকানুন ও জমিজমার জটিলতার সমাধান দিয়ে থাকেন সাব-রেজিস্ট্রার কর্মকর্তা, যা আমাদের নির্ভুলভাবে দলিল তৈরিতে দারুণ সহায়ক ভূমিকা রাখছে।”
​এই উদ্যোগ সম্পর্কে শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ রবিউল ইসলাম বলেছেন, “আমাদের দেশের অন্যতম বড় সমস্যা জমিজমা সংক্রান্ত। আইনি তথ্যের অভাবে মানুষ বিড়ম্বনায় পড়ে। তাই মানুষকে সহজ ভাষায় সচেতন করতে দাপ্তরিক সেবার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বেছে নিয়েছি। এর ফলে ঘরে বসেই মানুষ কাঙ্ক্ষিত তথ্য পাচ্ছে এবং কার্যালয়ে এসে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না।”
​মফস্বল শহরসহ সারা দেশে ভূমি ও দলিল-সংক্রান্ত সরকারি সেবার নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজ ভাষায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর বলে মনে করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

জনপ্রিয়

দলিল রেজিস্ট্রেশনের জটিলতা কমাতে ফেসবুকে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শাহজাদপুরের সাব-রেজিস্ট্রার রবিউল ইসলামের

প্রকাশের সময় : ১০:০৫:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

​মোঃ মোসলেম উদ্দিন সিরাজী সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

​জমিজমা ক্রয়-বিক্রয় ও দলিল রেজিস্ট্রেশন নিয়ে সাধারণ মানুষের নানা প্রশ্ন, ভ্রান্ত ধারণা ও আইনি জটিলতা রয়েছে। দলিলের খরচ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া কিংবা আইনগত সঠিক তথ্য না জানার কারণে অনেকেই বিড়ম্বনায় পড়েন। সাধারণ মানুষকে এই সব বিষয়ে সহজ ধারণা দিতে সরকারি দাপ্তরিক সেবার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ রবিউল ইসলাম। ​শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে আসা সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমি ও দলিল-সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে থেকে সরাসরি প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাচ্ছেন তারা। কোনো বিষয় বুঝতে অসুবিধা হলে তিনি অত্যন্ত সহজ ভাষায় বোঝান, এমনকি প্রয়োজনে কাগজে লিখেও বিষয়টি বুঝিয়ে দেন। সরকারি সেবার পাশাপাশি ‘Rabiul Islam’ নামের নিজস্ব ফেসবুক পেজে দলিল রেজিস্ট্রেশনের ব্যয়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জমি-সংক্রান্ত নানা বিষয়ে শিক্ষণীয় ভিডিও প্রকাশ করেছেন তিনি। মাঝে মধ্যে ফেসবুকে লাইভে এসে সরাসরি আইনি পরামর্শ ও প্রশ্নের সমাধানও দিচ্ছেন। ​এর ফলে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই দলিল রেজিস্ট্রেশনের সম্ভাব্য খরচ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নিয়ে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারছেন। এতে কার্যলয়ে অ-প্রয়োজনীয় ভিড় কমেছে। তবে অনলাইন ভিত্তিক এই উদ্যোগ চালাতে গিয়ে তাকে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে নানা প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতার মুখোমুখিও হতে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও সেবা বন্ধ করেননি তিনি। বর্তমানে তাঁর ফেসবুক পেজে ২ লাখেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে এবং তথ্যভিত্তিক এই সেবার কারণে দিন দিন তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ​সেবা নিতে আসা শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের ছোট মহারাজপুর গ্রামের মোঃ নায়েব আলী বলেছেন, “বোনদের কাছ থেকে জমি রেজিস্ট্রি করার সময় পিতা-মাতার নামের বানানে জটিলতা দেখা দিয়েছিলো। পরে সাব-রেজিস্ট্রার কর্মকর্তার পরামর্শে কোনো হয়রানি ছাড়াই সহজে দলিল রেজিস্ট্রি করতে পেরেছি। এছাড়া সাব-রেজিস্ট্রার কর্মকর্তার
ফেসবুক ভিডিও দেখে আমার নিজস্ব আরো কিছু জমির জটিলতার সমাধান পেয়েছি।” ​শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের দলিল লেখক মোঃ আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, “বর্তমান সময়ে নির্ভুল দলিল রেজিস্ট্রি করতে নানা জটিলতায় পড়তে হয়। সেক্ষেত্রে সাব-রেজিস্ট্রার কর্মকর্তার কাছে থেকে সহজে পরামর্শ পাওয়ায় নির্ভুলভাবে কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে।” ​দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মোঃ সেলিম ইউসুফ বলেছেন, “দলিল রেজিস্ট্রির বিভিন্ন সময়ে নানা আইনকানুন ও জমিজমার জটিলতার সমাধান দিয়ে থাকেন সাব-রেজিস্ট্রার কর্মকর্তা, যা আমাদের নির্ভুলভাবে দলিল তৈরিতে দারুণ সহায়ক ভূমিকা রাখছে।”
​এই উদ্যোগ সম্পর্কে শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ রবিউল ইসলাম বলেছেন, “আমাদের দেশের অন্যতম বড় সমস্যা জমিজমা সংক্রান্ত। আইনি তথ্যের অভাবে মানুষ বিড়ম্বনায় পড়ে। তাই মানুষকে সহজ ভাষায় সচেতন করতে দাপ্তরিক সেবার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বেছে নিয়েছি। এর ফলে ঘরে বসেই মানুষ কাঙ্ক্ষিত তথ্য পাচ্ছে এবং কার্যালয়ে এসে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না।”
​মফস্বল শহরসহ সারা দেশে ভূমি ও দলিল-সংক্রান্ত সরকারি সেবার নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজ ভাষায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর বলে মনে করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।