১০:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

উল্লাপাড়ায় জমে উঠেছে ধানের চারা কেনা-বেচা

  • প্রকাশের সময় : ০৭:১৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 57

‎মোঃ মোসলেম উদ্দিন সিরাজী
‎সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

‎সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে বোরো ধানের চারা কেনা-বেচা জমে উঠেছে। বর্তমানে বোরো ধানের চারা লাগানোর ধুম পড়েছে। কৃষকেরা জমিতে ধান লাগানোর জন্য বোরো মৌসুমে বিভিন্ন জাতের ধানের বীজতলা তৈরি করে থাকেন। তবে অনেক সময় কৃষকদের ধানের চারা সংকট হয়। আবার অনেকে জমিতে লাগানোর পরে ও ধানের চারা উদ্বৃত্ত থাকে। বীজতলায় বেশি দিন সেই চারা রাখা যায় না। এই সব চারা বীজতলা থেকে তুলে এনে সহজেই উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করেছেন কৃষকেরা। আবার সরাসরি কৃষকের বীজতলা থেকে চারা কিনে হাটে এনে ও বিক্রি করেছেন অনেকে। দূর্গানগর ইউনিয়নের মোবারক হোসেন জানিয়েছেন,আমন-বোরো এই দুই মৌসুমে হাটে মূলত বিভিন্ন জাতের ধানচারা বিক্রি করা হয়। সপ্তাহে রবি ও মঙ্গলবার দুই দিন এখানে হাট লাগে। বর্তমানে প্রতি হাটে দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতা এই হাটে আসে। গত রবিবার বিকেলে সরেজমিনে রাজমান হাটে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকেরা হাটে ঘুরে বোরো ধানের চারা কিনেছেন। বিক্রেতারাও প্রকারভেদে চারার দাম হাঁকছেন। ধানের চারা আঁটি করে বেঁধে এনে এই হাটে বিক্রি করা হচ্ছে। দেড়শো মুঠো ধান চারা ১৩ শ টাকা বেচা-কেনা হয়েছে। এতে দেখা গেলো,এক মুঠো ধান চারার দাম পড়েছে আট টাকা ৬৬ পয়সা।ধানের চারা কিনতে আসা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভদ্রকোল গ্রামের কৃষক মোবারক হোসেন মোফা (৫০) বলেছেন,তাঁর ৩০ শতক আবাদি ধানি জমি আছে। দুই বছর ধরে রাজমান হাট থেকে আমন ও বোরো এই দুই মৌসুমে ধানের চারা কিনে জমিতে রোপণ করেছেন। ধানের বীজতলা তৈরি করতে জমি লাগে। এ ছাড়া বীজ কেনা,পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণে ৩০ শতক জমিতে রোপণের জন্য বোরো চারা তৈরিতে খরচ পড়ে অন্তত দুই হাজার টাকা। হাট থেকে তিনি ৫০০ টাকার চারা কিনেছেন। চারা কিনতে আসা কয়ড়া চড়পাড়া গ্রামের কৃষক নাজমুলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা ও গত দুই বছর ধরে আমন ও বোরো মৌসুমে রাজমান হাট অথবা গয়হাট্টা হাট থেকে সরাসরি চারা কিনে জমিতে লাগিয়েছেন। তুলনামূলক কম দামে হাট থেকে চারা কিনতেন পারেন। লাহিড়ী পাড়া গ্রামের কৃষক আহাদ জানিয়েছেন, হাটে বোরো চারা আঁটি বেঁধে বিক্রি করতে এসেছিলেন। ডুবডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন,নিজে ৪ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করার জন্য বীজতলার ২৯ জাতের চারা লাগিয়েছিলাম। তিনি বীজতলার অবশিষ্ট প্রায় ৩শ মুঠো ধান চারা বেঁচতে হাটে এনেছিলেন। কৃষক জাহিদুল জানিয়েছেন, তিনি প্রায় ৪ শো মুঠো ধান চারা বীজতলা থেকে তুলে বেঁচতে এনেছিলেন বীজতলা থেকে চারা তোলা বাবদ মোট দুইশো টাকা খরচ হয়েছে। এই বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার সুবর্ণা ইয়াসমিন -সুমী বলেছেন, প্রয়োজনীয় মুহূর্তে সহজেই কৃষকেরা উপজেলার বিভিন্ন হাট যেমন গয়হাট্টা, রাজমান উল্লাপাড়া সদর,মোহনপুরসহ বিভিন্ন বাজার থেকে চারা কিনে জমিতে লাগাতে পারছেন ক্রেতা- বিক্রেতা উভয় কৃষক এতে উপকৃত হচ্ছেন।

জনপ্রিয়

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ-এর আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

উল্লাপাড়ায় জমে উঠেছে ধানের চারা কেনা-বেচা

প্রকাশের সময় : ০৭:১৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‎মোঃ মোসলেম উদ্দিন সিরাজী
‎সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

‎সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে বোরো ধানের চারা কেনা-বেচা জমে উঠেছে। বর্তমানে বোরো ধানের চারা লাগানোর ধুম পড়েছে। কৃষকেরা জমিতে ধান লাগানোর জন্য বোরো মৌসুমে বিভিন্ন জাতের ধানের বীজতলা তৈরি করে থাকেন। তবে অনেক সময় কৃষকদের ধানের চারা সংকট হয়। আবার অনেকে জমিতে লাগানোর পরে ও ধানের চারা উদ্বৃত্ত থাকে। বীজতলায় বেশি দিন সেই চারা রাখা যায় না। এই সব চারা বীজতলা থেকে তুলে এনে সহজেই উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করেছেন কৃষকেরা। আবার সরাসরি কৃষকের বীজতলা থেকে চারা কিনে হাটে এনে ও বিক্রি করেছেন অনেকে। দূর্গানগর ইউনিয়নের মোবারক হোসেন জানিয়েছেন,আমন-বোরো এই দুই মৌসুমে হাটে মূলত বিভিন্ন জাতের ধানচারা বিক্রি করা হয়। সপ্তাহে রবি ও মঙ্গলবার দুই দিন এখানে হাট লাগে। বর্তমানে প্রতি হাটে দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতা এই হাটে আসে। গত রবিবার বিকেলে সরেজমিনে রাজমান হাটে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকেরা হাটে ঘুরে বোরো ধানের চারা কিনেছেন। বিক্রেতারাও প্রকারভেদে চারার দাম হাঁকছেন। ধানের চারা আঁটি করে বেঁধে এনে এই হাটে বিক্রি করা হচ্ছে। দেড়শো মুঠো ধান চারা ১৩ শ টাকা বেচা-কেনা হয়েছে। এতে দেখা গেলো,এক মুঠো ধান চারার দাম পড়েছে আট টাকা ৬৬ পয়সা।ধানের চারা কিনতে আসা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভদ্রকোল গ্রামের কৃষক মোবারক হোসেন মোফা (৫০) বলেছেন,তাঁর ৩০ শতক আবাদি ধানি জমি আছে। দুই বছর ধরে রাজমান হাট থেকে আমন ও বোরো এই দুই মৌসুমে ধানের চারা কিনে জমিতে রোপণ করেছেন। ধানের বীজতলা তৈরি করতে জমি লাগে। এ ছাড়া বীজ কেনা,পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণে ৩০ শতক জমিতে রোপণের জন্য বোরো চারা তৈরিতে খরচ পড়ে অন্তত দুই হাজার টাকা। হাট থেকে তিনি ৫০০ টাকার চারা কিনেছেন। চারা কিনতে আসা কয়ড়া চড়পাড়া গ্রামের কৃষক নাজমুলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা ও গত দুই বছর ধরে আমন ও বোরো মৌসুমে রাজমান হাট অথবা গয়হাট্টা হাট থেকে সরাসরি চারা কিনে জমিতে লাগিয়েছেন। তুলনামূলক কম দামে হাট থেকে চারা কিনতেন পারেন। লাহিড়ী পাড়া গ্রামের কৃষক আহাদ জানিয়েছেন, হাটে বোরো চারা আঁটি বেঁধে বিক্রি করতে এসেছিলেন। ডুবডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন,নিজে ৪ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করার জন্য বীজতলার ২৯ জাতের চারা লাগিয়েছিলাম। তিনি বীজতলার অবশিষ্ট প্রায় ৩শ মুঠো ধান চারা বেঁচতে হাটে এনেছিলেন। কৃষক জাহিদুল জানিয়েছেন, তিনি প্রায় ৪ শো মুঠো ধান চারা বীজতলা থেকে তুলে বেঁচতে এনেছিলেন বীজতলা থেকে চারা তোলা বাবদ মোট দুইশো টাকা খরচ হয়েছে। এই বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার সুবর্ণা ইয়াসমিন -সুমী বলেছেন, প্রয়োজনীয় মুহূর্তে সহজেই কৃষকেরা উপজেলার বিভিন্ন হাট যেমন গয়হাট্টা, রাজমান উল্লাপাড়া সদর,মোহনপুরসহ বিভিন্ন বাজার থেকে চারা কিনে জমিতে লাগাতে পারছেন ক্রেতা- বিক্রেতা উভয় কৃষক এতে উপকৃত হচ্ছেন।