
নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইমার্জেন্সি গেটের সামনে অবস্থিত ‘জায়নাব ফার্মেসি’র বিরুদ্ধে রোগীদের জিম্মি করে ঔষধের আকাশচুম্বী দাম রাখার এক ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ৮০০ টাকা বাজারমূল্যের ঔষধ এক রোগীর স্বজনের কাছে ২,৫৫০ টাকায় বিক্রি করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় ৩ গুণেরও বেশি দাম হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ঘটনার বিবরণ
জানা যায়, চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক মুমূর্ষু রোগীর জন্য ঔষধ কিনতে ইমার্জেন্সি গেট সংলগ্ন জায়নাব ফার্মেসিতে যান তার স্বজনরা। ঔষধের লিস্ট দেখে ফার্মেসি কর্তৃপক্ষ তাদের কাছ থেকে ২,৫৫০ টাকা আদায় করে। পরবর্তীতে ঔষধের গায়ের মূল্যের সাথে ভাউচারের গরমিল দেখে স্বজনরা প্রতিবাদ করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। হিসেবে দেখা যায়, ঔষধগুলোর প্রকৃত খুচরা মূল্য ৮০০ টাকার আশেপাশে।
জনমনে তীব্র ক্ষোভ
এই জালিয়াতির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনসাধারণ এবং হাসপাতালে আসা রোগীদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইমার্জেন্সি গেটের সামনে হওয়ার সুযোগে এবং মানুষের বিপদের সুযোগ নিয়ে এই ফার্মেসি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে আসছে।
”মানুষ যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ইমার্জেন্সিতে আসে, তখন ঔষধের দাম যাচাই করার মানসিক অবস্থায় থাকে না। জায়নাব ফার্মেসি মানুষের এই অসহায়ত্বকেই ব্যবসার হাতিয়ার বানিয়েছে।” — ক্ষুব্ধ এক প্রত্যক্ষদর্শী।
কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি
মেডিসিন খাতের এই কঠিন প্রতারণা রুখতে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন চট্টগ্রামবাসী। এলাকাবাসীর দাবি:
তদন্ত সাপেক্ষে জায়নাব ফার্মেসির লাইসেন্স বাতিল করা।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃক বড় অঙ্কের জরিমানা ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
চমেক হাসপাতালের সামনের সকল ফার্মেসিতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা।
ঔষধের মতো জীবনরক্ষাকারী পণ্য নিয়ে এমন ডাকাতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের নির্লিপ্ততা যেন এই অসাধু ব্যবসায়ীদের আরও সাহসী করে না তোলে, এটাই এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।
চট্টগ্রাম বিশেষ প্রতিনিধি মনি আক্তার,





















