০৯:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

কুমিল্লা সীমান্তে চোরাচালানের ‘গডফাদার’ ব্ল্যাক আরিফ: মাদক ও অবৈধ পণ্যের স্বর্গরাজ্য

  • প্রকাশের সময় : ১১:২৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
  • 52

​নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা 

​কুমিল্লা সীমান্ত জুড়ে মাদকের মরণনেশা আর ভারতীয় অবৈধ পণ্যের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে কুখ্যাত চোরাকারবারি আরিফ, যিনি এলাকায় ‘ব্ল্যাক আরিফ’ নামে পরিচিত। তার শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সীমান্তের সাধারণ মানুষ। মাদক থেকে শুরু করে কসমেটিক্স—সবই এখন তার হাতের মুঠোয়।
​সিন্ডিকেটের মূল কার্যক্রম:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ব্ল্যাক আরিফের নির্দেশে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। তার এই সিন্ডিকেট প্রধানত যেসব পণ্য পাচার করে:
​মাদক: ইয়াবা, ফেনসিডিল এবং বিভিন্ন মরণঘাতী মাদক দ্রব্য।
​পণ্যসামগ্রী: ভারতীয় শাড়ি, লেহেঙ্গা, জিরা এবং মানহীন কসমেটিক্স।
​ইলেক্ট্রনিক্স ও ঔষধ: অবৈধ মোবাইল সেট এবং ভারত থেকে আনা নিম্নমানের মেডিসিন।
​প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ ও ধরাছোঁয়ার বাইরে:
স্থানীয়দের অভিযোগ, আরিফ অত্যন্ত চতুরতার সাথে প্রশাসন ও বর্ডার গার্ডের চোখ ফাঁকি দিয়ে তার এই বিশাল সাম্রাজ্য পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার এই অবৈধ কারবার নির্বিঘ্ন করতে তিনি নির্দিষ্ট কিছু স্তরে ‘ম্যানেজ’ করার প্রক্রিয়া চালু রেখেছেন, যার ফলে বারবার পার পেয়ে যাচ্ছেন তিনি। তার অত্যাচারে সীমান্তের সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না; যারা প্রতিবাদ করে তাদের ওপর নেমে আসে নির্মম নির্যাতন।
​সীমান্তবাসীর আর্তনাদ:
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সীমান্তের এক বাসিন্দা জানান, “আরিফের কারণে আমাদের এলাকার যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মাদকের ছড়াছড়ি আর অবৈধ পণ্যের গুদামে পরিণত হয়েছে আমাদের গ্রাম। আমরা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ চাই।”
​শাস্তির দাবি:
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, অনতিবিলম্বে ‘ব্ল্যাক আরিফ’ ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালান বন্ধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

জনপ্রিয়

স্বামী-স্ত্রী দুজনই মাদক ব্যবসায় জড়িত গাঁজাসহ স্ত্রী গ্রেফতার

কুমিল্লা সীমান্তে চোরাচালানের ‘গডফাদার’ ব্ল্যাক আরিফ: মাদক ও অবৈধ পণ্যের স্বর্গরাজ্য

প্রকাশের সময় : ১১:২৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

​নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা 

​কুমিল্লা সীমান্ত জুড়ে মাদকের মরণনেশা আর ভারতীয় অবৈধ পণ্যের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে কুখ্যাত চোরাকারবারি আরিফ, যিনি এলাকায় ‘ব্ল্যাক আরিফ’ নামে পরিচিত। তার শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সীমান্তের সাধারণ মানুষ। মাদক থেকে শুরু করে কসমেটিক্স—সবই এখন তার হাতের মুঠোয়।
​সিন্ডিকেটের মূল কার্যক্রম:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ব্ল্যাক আরিফের নির্দেশে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। তার এই সিন্ডিকেট প্রধানত যেসব পণ্য পাচার করে:
​মাদক: ইয়াবা, ফেনসিডিল এবং বিভিন্ন মরণঘাতী মাদক দ্রব্য।
​পণ্যসামগ্রী: ভারতীয় শাড়ি, লেহেঙ্গা, জিরা এবং মানহীন কসমেটিক্স।
​ইলেক্ট্রনিক্স ও ঔষধ: অবৈধ মোবাইল সেট এবং ভারত থেকে আনা নিম্নমানের মেডিসিন।
​প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ ও ধরাছোঁয়ার বাইরে:
স্থানীয়দের অভিযোগ, আরিফ অত্যন্ত চতুরতার সাথে প্রশাসন ও বর্ডার গার্ডের চোখ ফাঁকি দিয়ে তার এই বিশাল সাম্রাজ্য পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার এই অবৈধ কারবার নির্বিঘ্ন করতে তিনি নির্দিষ্ট কিছু স্তরে ‘ম্যানেজ’ করার প্রক্রিয়া চালু রেখেছেন, যার ফলে বারবার পার পেয়ে যাচ্ছেন তিনি। তার অত্যাচারে সীমান্তের সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না; যারা প্রতিবাদ করে তাদের ওপর নেমে আসে নির্মম নির্যাতন।
​সীমান্তবাসীর আর্তনাদ:
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সীমান্তের এক বাসিন্দা জানান, “আরিফের কারণে আমাদের এলাকার যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মাদকের ছড়াছড়ি আর অবৈধ পণ্যের গুদামে পরিণত হয়েছে আমাদের গ্রাম। আমরা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ চাই।”
​শাস্তির দাবি:
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, অনতিবিলম্বে ‘ব্ল্যাক আরিফ’ ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালান বন্ধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।