১২:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

কুমিল্লার শাসনগাছায় জিপির নামে চাঁদাবাজির মহোৎসব: দিশেহারা চালক ও সাধারণ যাত্রী

  • প্রকাশের সময় : ১২:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • 1

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা  ​কুমিল্লার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার শাসনগাছা বাস টার্মিনাল এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা থেকে ‘জিপি’ বা তথাকথিত টোকেন বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রকাশ্য চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, শাসনগাছা থেকে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া অভিমুখে চলাচলকারী প্রতিটি সিএনজি থেকে দৈনিক নির্দিষ্ট হারে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এই অবৈধ চাঁদাবাজির সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের পকেটে।
​সংবাদপত্রের জন্য খসড়া প্রতিবেদন:
অবৈধ টোকেন বাণিজ্য:
সরেজমিনে দেখা যায়, শাসনগাছা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় জেলা পরিষদের নামে ছাপানো রশিদে “অন্যান্য পরিবহন” দেখিয়ে ১৫ টাকা ২০-টাকা ৪০-টাকা বা তার বেশি হারে টাকা ভিআইপি ১০০ টাকা করে জিপি আদায় করা হচ্ছে। চালকদের অভিযোগ, এই টাকার কোনো বৈধ ভিত্তি নেই। এটি মূলত ‘জিপি’ (Gate Pass) নাম দিয়ে এক প্রকার জোরপূর্বক চাঁদাবাজি।
​চালকদের আর্তনাদ:
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিএনজি চালক জানান, “শাসনগাছা থেকে বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া রুটে গাড়ি চালাতে হলে আমাদের কয়েক ধাপে টাকা দিতে হয়। এই চাঁদা না দিলে স্ট্যান্ডে গাড়ি দাঁড়াতে দেওয়া হয় না, এমনকি অনেক সময় চালকদের লাঞ্ছিত হতে হয়। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে যা আয় করি, তার বড় একটি অংশ চলে যায় এই টোকেন বা জিপির পেছনে।”
​ভাড়ার চাপে পিষ্ট যাত্রী:
এই চাঁদাবাজির নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ভাড়ার ওপর। চালকরা জানান, পথে পথে এত টাকা চাঁদা দেওয়ার পর তেলের দাম ও জমার টাকা তুলে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন। সাধারণ যাত্রীদের দাবি, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এই চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, যার মাসুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
​প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি:
বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া রুটে যাতায়াতকারী যাত্রী এবং হয়রানির শিকার সিএনজি চালকরা অবিলম্বে শাসনগাছা এলাকার এই অবৈধ চাঁদাবাজি ও টোকেন বাণিজ্য বন্ধে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, এই জিপি প্রথা বন্ধ হলে ভাড়ার নৈরাজ্য কমবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
​সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের (Facebook) জন্য সংক্ষিপ্ত ক্যাপশন:
​শাসনগাছায় ‘জিপি’র নামে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি!
​কুমিল্লা শাসনগাছা থেকে বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া রুটে চলাচলকারী সিএনজিগুলোতে অবৈধ ‘জিপি’ ও টোকেন বাণিজ্যের কারণে অতিষ্ঠ চালক ও সাধারণ যাত্রীরা। জেলা পরিষদের নামে রশিদ ছাপিয়ে এই প্রকাশ্য চাঁদাবাজির কারণেই যাত্রীদের ওপর চাপানো হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।

জনপ্রিয়

কুমিল্লার শাসনগাছায় জিপির নামে চাঁদাবাজির মহোৎসব: দিশেহারা চালক ও সাধারণ যাত্রী

কুমিল্লার শাসনগাছায় জিপির নামে চাঁদাবাজির মহোৎসব: দিশেহারা চালক ও সাধারণ যাত্রী

প্রকাশের সময় : ১২:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা  ​কুমিল্লার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার শাসনগাছা বাস টার্মিনাল এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা থেকে ‘জিপি’ বা তথাকথিত টোকেন বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রকাশ্য চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, শাসনগাছা থেকে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া অভিমুখে চলাচলকারী প্রতিটি সিএনজি থেকে দৈনিক নির্দিষ্ট হারে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এই অবৈধ চাঁদাবাজির সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের পকেটে।
​সংবাদপত্রের জন্য খসড়া প্রতিবেদন:
অবৈধ টোকেন বাণিজ্য:
সরেজমিনে দেখা যায়, শাসনগাছা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় জেলা পরিষদের নামে ছাপানো রশিদে “অন্যান্য পরিবহন” দেখিয়ে ১৫ টাকা ২০-টাকা ৪০-টাকা বা তার বেশি হারে টাকা ভিআইপি ১০০ টাকা করে জিপি আদায় করা হচ্ছে। চালকদের অভিযোগ, এই টাকার কোনো বৈধ ভিত্তি নেই। এটি মূলত ‘জিপি’ (Gate Pass) নাম দিয়ে এক প্রকার জোরপূর্বক চাঁদাবাজি।
​চালকদের আর্তনাদ:
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিএনজি চালক জানান, “শাসনগাছা থেকে বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া রুটে গাড়ি চালাতে হলে আমাদের কয়েক ধাপে টাকা দিতে হয়। এই চাঁদা না দিলে স্ট্যান্ডে গাড়ি দাঁড়াতে দেওয়া হয় না, এমনকি অনেক সময় চালকদের লাঞ্ছিত হতে হয়। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে যা আয় করি, তার বড় একটি অংশ চলে যায় এই টোকেন বা জিপির পেছনে।”
​ভাড়ার চাপে পিষ্ট যাত্রী:
এই চাঁদাবাজির নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ভাড়ার ওপর। চালকরা জানান, পথে পথে এত টাকা চাঁদা দেওয়ার পর তেলের দাম ও জমার টাকা তুলে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন। সাধারণ যাত্রীদের দাবি, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এই চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, যার মাসুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
​প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি:
বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া রুটে যাতায়াতকারী যাত্রী এবং হয়রানির শিকার সিএনজি চালকরা অবিলম্বে শাসনগাছা এলাকার এই অবৈধ চাঁদাবাজি ও টোকেন বাণিজ্য বন্ধে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, এই জিপি প্রথা বন্ধ হলে ভাড়ার নৈরাজ্য কমবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
​সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের (Facebook) জন্য সংক্ষিপ্ত ক্যাপশন:
​শাসনগাছায় ‘জিপি’র নামে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি!
​কুমিল্লা শাসনগাছা থেকে বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া রুটে চলাচলকারী সিএনজিগুলোতে অবৈধ ‘জিপি’ ও টোকেন বাণিজ্যের কারণে অতিষ্ঠ চালক ও সাধারণ যাত্রীরা। জেলা পরিষদের নামে রশিদ ছাপিয়ে এই প্রকাশ্য চাঁদাবাজির কারণেই যাত্রীদের ওপর চাপানো হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।