
মো. শাহীন আলম, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের একমাত্র যোগাযোগ পথ তেরানগর ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরেই মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও এখনো পুনর্নির্মাণ হয়নি। পরিত্যক্ত ঘোষিত হওয়ার পরও প্রতিদিন শত শত মানুষ বাধ্য হয়ে এই পুরোনো ও জীর্ণ কাঠামোর ওপর দিয়ে পারাপার করছে।
ছোট যানবাহন থেকে পথচারী-সবাই আতঙ্ক নিয়ে ব্রীজটি পাড়ি দেয় প্রতিদিন।
স্থানীয়দের অভিযোগ-বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন সময় প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেলেও বাস্তব উন্নয়নকাজের দেখা মেলেনি। দক্ষিণাঞ্চলের ৩০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জন্য এটি একমাত্র চলাচলের পথ। পরিত্যক্ত ঘোষণার পর কেটে গেছে ১২ বছর, তবুও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
সিমেন্ট-সুরকি খসে পড়া, উন্মুক্ত লোহার রড বেরিয়ে থাকা, বিভিন্ন অংশ দেবে যাওয়া-এসব কারণে অটো, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত একযুগে এ এলাকায় ঘটেছে প্রায় দেড় শতাধিক দুর্ঘটনা।
ইজিবাইক চালক স্বপন বলেন, “পেটের দায়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজে উঠতে হয়। হুইল পিছলে গেলে গাড়ি নিচে পড়ে যাওয়ার ভয় থেকে যায় সব সময়। কিন্তু বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে চলাচল করি।”
পথচারী গীতারাণি বলেন, “ব্রিজে উঠলেই মনে হয় দেবে যাবে। বাচ্চা নিয়ে পার হওয়া দুঃস্বপ্নের মতো। সারা দেশে উন্নয়ন হলেও আমরা যেন মৃত্যুফাঁদে হাঁটি।”
আরেক পথচারী কাসেম মিয়া বলেন, “ব্রিজ ভাঙা থাকার কারণে গাড়িচলাচল কমে গেছে। মালপত্র আনা-নেয়ায় কষ্ট হয়, ভাড়াও বেশি লাগে।”
কৃষকদের একই অভিযোগ-বছরের পর বছর শুধু আশ্বাস। তাদের ভাষায়,
“বাঁশের সাঁকোর কথা শোনাই, কিন্তু স্থায়ী সমাধান আজও হয়নি। বছরে একমাত্র ফসল বোরো ধান। সার, বীজ, কৃষি উপকরণ আনায়ন থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা-সবক্ষেত্রেই দুর্ভোগ পোহাতে হয় এই ব্রিজের কারণে।”
ভীমখালি ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান তালুকদার বলেন, “তেরানগর ব্রিজের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে আমি বহুবার এলজিডি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তেরানগর ব্রিজসহ ভীমখালি ইউনিয়নের আরও কয়েকটি ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। জনস্বার্থে এগুলোর দ্রুত সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ছানোয়ার হোসেন বলেন, “জামালগঞ্জে দীর্ঘদিন কোনো ব্রিজে বড় ধরনের সংস্কার বা নতুন নির্মাণ হয়নি। তেরানগর ব্রিজের কাগজপত্র নতুন করে প্রেরণ করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে পাঁচটি ব্রিজের প্রকল্প পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে তেরানগর ব্রিজ অন্যতম। চলতি মৌসুমেই ৯৬ মিটার দৈর্ঘ্যের নতুন ব্রিজ নির্মাণের অনুমোদন পাওয়ার আশা করছি।”
দীর্ঘ এক যুগ ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করা
দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের এখন একটাই দাবি-অস্থায়ী সংস্কারের বদলে দ্রুত স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বা কাগজপত্রের জটিলতায় আর সময় নষ্ট নয়; তেরানগর ব্রিজই বর্তমানে জামালগঞ্জ দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন।














