
মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “আমরা দেশের শান্তি চাই। বিভেদ, সংঘাত ও অস্থিরতার রাজনীতি নয়—ঐক্য, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”
বৃহস্পতিবার রাজধানীর অদূরে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ আজ নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও মর্যাদার নিশ্চয়তা চায়। একটি নিরাপদ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা না হলে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন অর্থবহ হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে ওঠে।” তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই ভিন্নমত যেন কখনো সহিংসতা বা বিদ্বেষে রূপ না নেয়—সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
দেশ গঠনে সম্মিলিত প্রয়াসের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে দেশ ও মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে তরুণরা নিরাপদ ভবিষ্যৎ পাবে, নারীরা সম্মানের সঙ্গে চলতে পারবে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পেতে আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরবে না,”—বলেন তিনি।
এ সময় তারেক রহমান মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে বলেন, সকল ক্ষমতার মালিক একমাত্র আল্লাহ তায়ালা। তিনি পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দেন, যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নেন; যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন, যাকে ইচ্ছা হীন করেন। কল্যাণ একমাত্র তাঁরই হাতে। তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাইকে নৈতিকতা, ধৈর্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বক্তব্যে ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশনা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। বরং একটি প্রাতিষ্ঠানিক, জবাবদিহিমূলক ও জনমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই দলের লক্ষ্য। শান্তি ও স্থিতিশীলতা ছাড়া অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই বক্তব্যে শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্মিলিত রাষ্ট্রগঠনের যে বার্তা উঠে এসেছে, তা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাৎপর্যপূর্ণ। তারা মনে করছেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সংঘাতের রাজনীতির পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তৃতা শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেশ ও জনগণের স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারেক রহমান।



























