০১:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

মাদকের মরণ ছোবলঃ ধ্বংসের পথে তরুণ প্রজন্ম

  • প্রকাশের সময় : ০৬:৩২:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • 31

‎​মোঃ মোসলেম উদ্দিন সিরাজী ‎​ মাদকের মরণ ছোবলঃ ধ্বংসের পথে তরুণ প্রজন্ম। বর্তমান সমাজে মাদকাসক্তি একটি ভয়াবহ সমস্যা। হতাশা, বেকারত্ব, বন্ধুদের চাপ কিংবা কৌতূহল বশত অনেক তরুণ এই মরণ নেশার পথে পা বাড়াচ্ছে। এর ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য যেমন ধ্বংস হচ্ছে, তেমনি পরিবার ও সমাজে বাড়ছে অশান্তি ও অপরাধ। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে একসাথে মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। যুবসমাজকে সুস্থ ও সুন্দর জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন নিয়মিত খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও নৈতিক শিক্ষা। মাদককে ‘না’ বলুন, সুন্দর জীবন গড়ুন। মাদকাসক্তির কারণে মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি হয়,হৃদরোগ, লিভারের সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও বড়সড় প্রভাব পড়ে। হতাশা, উদ্বেগ,এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতাও বেড়ে যাচ্ছে। তাছাড়া,মাদক চোরাচালানের ফলে সমাজে অপরাধের হার বাড়ে এবং দেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিজ্ঞান ও মনোরোগ চিকিৎসার প্রেক্ষাপটটি আনতে পারে। এখন মাদকাসক্তিকে একটি চিকিৎসাযোগ্য মানসিক রোগ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যাকে ‘ক্রনিক রিল্যাপসিং ব্রেইন ডিজিজ’ বলা হয়। এর মানে, মস্তিষ্কে রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে এটি আর শুধু ইচ্ছার ব্যাপার থাকে না, বরং শারীরিক ও মানসিক সমস্যার রূপ নেয়। তাই শাস্তি নয়, চিকিৎসা ও সহমর্মিতাই এর সমাধান। চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটি এখন বায়ো- সাইকো- সোশ্যাল মডেলে করা হয়েছে। প্রথমে শারীরিক প্রভাব দূর করে শরীরকে সুস্থ করা হয়,তারপর মানসিক সমস্যার মূল কারণ গুলো নিয়ে কাজ করা হয় – যেমন হতাশা,উদ্বেগ বা কোনো ট্রমা। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, সাইকো- থেরাপিস্ট,কাউন্সেলররা সবাই মিলে কাজ করেন। এরপর জরুরি হলো সামাজিক পুনর্বাসন –ব্যক্তিকে সমাজে ফিরিয়ে আনা,কাজ খুঁজে দেওয়া, পরিবারের সাথে সম্পর্ক ঠিক করা। এই সব কিছুই চিকিৎসার অংশ। মাদকাসক্তি সম্পর্কে জানা যায়, প্রতিরোধ ব্যবস্থার কথা। যেমন,পরিবারে সন্তানদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা,তাদের বন্ধুদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখা এবং মাদকের কুফল সম্পর্কে মুক্ত আলোচনা করা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতেও নিয়মিত মাদকবিরোধী প্রচারণা চালানো জরুরি। আবার,মাদকাসক্তদের চিকিৎসায় পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেখানে তারা শুধু মাদকের প্রভাব দূর করতেই সাহায্য পায় না,বরং মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতেও শেখে।

জনপ্রিয়

পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাক্টরসহ আটক ১, জরিমানা

মাদকের মরণ ছোবলঃ ধ্বংসের পথে তরুণ প্রজন্ম

প্রকাশের সময় : ০৬:৩২:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

‎​মোঃ মোসলেম উদ্দিন সিরাজী ‎​ মাদকের মরণ ছোবলঃ ধ্বংসের পথে তরুণ প্রজন্ম। বর্তমান সমাজে মাদকাসক্তি একটি ভয়াবহ সমস্যা। হতাশা, বেকারত্ব, বন্ধুদের চাপ কিংবা কৌতূহল বশত অনেক তরুণ এই মরণ নেশার পথে পা বাড়াচ্ছে। এর ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য যেমন ধ্বংস হচ্ছে, তেমনি পরিবার ও সমাজে বাড়ছে অশান্তি ও অপরাধ। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে একসাথে মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। যুবসমাজকে সুস্থ ও সুন্দর জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন নিয়মিত খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও নৈতিক শিক্ষা। মাদককে ‘না’ বলুন, সুন্দর জীবন গড়ুন। মাদকাসক্তির কারণে মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি হয়,হৃদরোগ, লিভারের সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও বড়সড় প্রভাব পড়ে। হতাশা, উদ্বেগ,এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতাও বেড়ে যাচ্ছে। তাছাড়া,মাদক চোরাচালানের ফলে সমাজে অপরাধের হার বাড়ে এবং দেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিজ্ঞান ও মনোরোগ চিকিৎসার প্রেক্ষাপটটি আনতে পারে। এখন মাদকাসক্তিকে একটি চিকিৎসাযোগ্য মানসিক রোগ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যাকে ‘ক্রনিক রিল্যাপসিং ব্রেইন ডিজিজ’ বলা হয়। এর মানে, মস্তিষ্কে রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে এটি আর শুধু ইচ্ছার ব্যাপার থাকে না, বরং শারীরিক ও মানসিক সমস্যার রূপ নেয়। তাই শাস্তি নয়, চিকিৎসা ও সহমর্মিতাই এর সমাধান। চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটি এখন বায়ো- সাইকো- সোশ্যাল মডেলে করা হয়েছে। প্রথমে শারীরিক প্রভাব দূর করে শরীরকে সুস্থ করা হয়,তারপর মানসিক সমস্যার মূল কারণ গুলো নিয়ে কাজ করা হয় – যেমন হতাশা,উদ্বেগ বা কোনো ট্রমা। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, সাইকো- থেরাপিস্ট,কাউন্সেলররা সবাই মিলে কাজ করেন। এরপর জরুরি হলো সামাজিক পুনর্বাসন –ব্যক্তিকে সমাজে ফিরিয়ে আনা,কাজ খুঁজে দেওয়া, পরিবারের সাথে সম্পর্ক ঠিক করা। এই সব কিছুই চিকিৎসার অংশ। মাদকাসক্তি সম্পর্কে জানা যায়, প্রতিরোধ ব্যবস্থার কথা। যেমন,পরিবারে সন্তানদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা,তাদের বন্ধুদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখা এবং মাদকের কুফল সম্পর্কে মুক্ত আলোচনা করা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতেও নিয়মিত মাদকবিরোধী প্রচারণা চালানো জরুরি। আবার,মাদকাসক্তদের চিকিৎসায় পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেখানে তারা শুধু মাদকের প্রভাব দূর করতেই সাহায্য পায় না,বরং মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতেও শেখে।