০৮:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

মৃত্যুফাঁদে ক্লাস স্কুল ভবনের বিম ধসে ৩ শিক্ষার্থী আহত

  • প্রকাশের সময় : ১০:৫৬:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • 63

দেলোয়ার হোসেন পাটওয়ারী লক্ষ্মীপুর  লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ১০ নম্বর ইউনিয়নের জনকল্যাণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভবনের একটি বিম ধসে পড়ে তিন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ক্লাস চলাকালীন সময়ে এ দুর্ঘটনা ঘটায় পুরো বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জানা যায়, বিদ্যালয়ের একতলা বিশিষ্ট পুরোনো ভবনের একটি কক্ষে পাঠদান চলছিল। হঠাৎ করেই ছাদের একটি বিম ভেঙে নিচে পড়ে। এতে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার, ঋতু বনিক ও সাদিয়া সুলতানা আহত হয়। পরে শিক্ষক ও স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত তাদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, জনকল্যাণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে মোট ৩৯৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক সংখ্যা ১২ জন এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছে ৭ জন। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

স্কুল ঘুরে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন কক্ষের একাধিক বিমে বড় বড় ফাটল ধরেছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এসব ফাটল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম জানান, “আমাদের এই ভবনটি ১৯৯০ সালে নির্মিত, যেখানে তিনটি কক্ষ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভবনের বিমে ফাটল দেখা দিচ্ছিল। ২০২২ সালে স্থানীয় চেয়ারম্যানের অর্থায়নে প্লাস্টারের কাজ করা হলেও পরবর্তীতে ভূমিকম্পের পর আবারও ফাটল দেখা দেয়।”

তিনি আরও বলেন, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আমরা বিষয়টি লক্ষ্মীপুরের প্রকৌশলীকে অবগত করি। এর অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকেও দেওয়া হয়েছিল। । এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার কয়েকবার পরিদর্শনে এসেছিলেন। আমরা তাকে বিমের ফাটলের ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কিনা জানতে চাই, কিন্তু কোনো কার্যকর সহযোগিতা পাইনি।”

ঘটনার পর অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এক অভিভাবক বলেন, “আমরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাই লেখাপড়ার জন্য, কিন্তু নিরাপত্তাহীন পরিবেশে নয়। এভাবে যদি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস হয়, তাহলে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগবে।

আরেকজন অভিভাবক বলেন, অনেক আগে থেকেই ভবনটি সংস্কার বা নতুন ভবন করার দাবি ছিল। কিন্তু সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে আজকে আমাদের সন্তানরা আহত হয়েছে।”
শিক্ষার্থীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এক শিক্ষার্থী জানায়, “হঠাৎ করে বিকট শব্দে বিম পড়ে গেলে আমরা সবাই ভয় পেয়ে যাই। অনেকেই দৌড়ে ক্লাসরুম থেকে বের হয়ে যায়। এখনো ক্লাস করতে ভয় লাগছে।

অন্য এক শিক্ষার্থী বলে, “আমরা চাই নিরাপদ ভবনে ক্লাস করতে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পড়তে ভয় লাগে।”
অন্যদিকে এ বিষয়ে প্রকৌশলী কর্মকর্তা শাহাদাত বলেন, “নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে মাটির সমস্যার কারণে ডিজাইন চূড়ান্ত করতে দেরি হচ্ছে। ডিজাইন সম্পন্ন হলেই দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, “ইতোমধ্যে আমি ঘটনাটি শুনেছি। আমরা রবিবার বিদ্যালয় পরিদর্শনে যাব।

এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাওসার বলেন, ঘটনাটি আমরা গুরুত্বসহকারে নিয়েছি। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ কিনা তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।

ঘটনার পর এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ছবি: ঝুঁকিপূর্ণ বিম—ক্ষতিগ্রস্ত ষষ্ঠ শ্রেণির কক্ষ

জনপ্রিয়

ব্রাহ্মণপাড়ায় তেলের বাজারে অরাজকতা: বড়ধুশিয়ায় ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে অকটেন

মৃত্যুফাঁদে ক্লাস স্কুল ভবনের বিম ধসে ৩ শিক্ষার্থী আহত

প্রকাশের সময় : ১০:৫৬:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

দেলোয়ার হোসেন পাটওয়ারী লক্ষ্মীপুর  লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ১০ নম্বর ইউনিয়নের জনকল্যাণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভবনের একটি বিম ধসে পড়ে তিন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ক্লাস চলাকালীন সময়ে এ দুর্ঘটনা ঘটায় পুরো বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জানা যায়, বিদ্যালয়ের একতলা বিশিষ্ট পুরোনো ভবনের একটি কক্ষে পাঠদান চলছিল। হঠাৎ করেই ছাদের একটি বিম ভেঙে নিচে পড়ে। এতে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার, ঋতু বনিক ও সাদিয়া সুলতানা আহত হয়। পরে শিক্ষক ও স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত তাদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, জনকল্যাণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে মোট ৩৯৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক সংখ্যা ১২ জন এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছে ৭ জন। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

স্কুল ঘুরে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন কক্ষের একাধিক বিমে বড় বড় ফাটল ধরেছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এসব ফাটল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম জানান, “আমাদের এই ভবনটি ১৯৯০ সালে নির্মিত, যেখানে তিনটি কক্ষ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভবনের বিমে ফাটল দেখা দিচ্ছিল। ২০২২ সালে স্থানীয় চেয়ারম্যানের অর্থায়নে প্লাস্টারের কাজ করা হলেও পরবর্তীতে ভূমিকম্পের পর আবারও ফাটল দেখা দেয়।”

তিনি আরও বলেন, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আমরা বিষয়টি লক্ষ্মীপুরের প্রকৌশলীকে অবগত করি। এর অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকেও দেওয়া হয়েছিল। । এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার কয়েকবার পরিদর্শনে এসেছিলেন। আমরা তাকে বিমের ফাটলের ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কিনা জানতে চাই, কিন্তু কোনো কার্যকর সহযোগিতা পাইনি।”

ঘটনার পর অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এক অভিভাবক বলেন, “আমরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাই লেখাপড়ার জন্য, কিন্তু নিরাপত্তাহীন পরিবেশে নয়। এভাবে যদি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস হয়, তাহলে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগবে।

আরেকজন অভিভাবক বলেন, অনেক আগে থেকেই ভবনটি সংস্কার বা নতুন ভবন করার দাবি ছিল। কিন্তু সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে আজকে আমাদের সন্তানরা আহত হয়েছে।”
শিক্ষার্থীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এক শিক্ষার্থী জানায়, “হঠাৎ করে বিকট শব্দে বিম পড়ে গেলে আমরা সবাই ভয় পেয়ে যাই। অনেকেই দৌড়ে ক্লাসরুম থেকে বের হয়ে যায়। এখনো ক্লাস করতে ভয় লাগছে।

অন্য এক শিক্ষার্থী বলে, “আমরা চাই নিরাপদ ভবনে ক্লাস করতে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পড়তে ভয় লাগে।”
অন্যদিকে এ বিষয়ে প্রকৌশলী কর্মকর্তা শাহাদাত বলেন, “নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে মাটির সমস্যার কারণে ডিজাইন চূড়ান্ত করতে দেরি হচ্ছে। ডিজাইন সম্পন্ন হলেই দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, “ইতোমধ্যে আমি ঘটনাটি শুনেছি। আমরা রবিবার বিদ্যালয় পরিদর্শনে যাব।

এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাওসার বলেন, ঘটনাটি আমরা গুরুত্বসহকারে নিয়েছি। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ কিনা তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।

ঘটনার পর এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ছবি: ঝুঁকিপূর্ণ বিম—ক্ষতিগ্রস্ত ষষ্ঠ শ্রেণির কক্ষ