০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন জানাজায় লাখো মানুষ

  • প্রকাশের সময় : ০১:৫৬:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • 61

মেহেদী হাসান রাসেল চ্যানেল এইচডি ২৪

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার পর স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে বিকেল ৩টার পর রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হয় তাঁর জানাজা। জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মানুষের ঢলে সেখানে জনস্রোতের সৃষ্টি হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক জানাজা পরিচালনা করেন।

জানাজার আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত মুসল্লি ও দেশবাসীর কাছে তাঁর মায়ের জন্য দোয়া কামনা করেন। তিনি বলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া যদি কারও কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্টদের তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান। সে ক্ষেত্রে তিনি তা পরিশোধের ব্যবস্থা করবেন। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার জীবনে তাঁর কোনো আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আপসহীন দেশনেত্রীর শেষযাত্রায় শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধি, ৩২ দেশের কূটনীতিক, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী-সমর্থক, আলেম-ওলামা ও সর্বস্তরের মানুষ।
জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, সড়ক ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বসিরউদ্দীন, খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলমসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী সহ বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।
অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফায়জুল হক, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, জাতীয় নাগরিক পার্টির হাসনাত আবদুল্লাহ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদী এবং ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।
উপস্থিত জনতার মতে, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। গণতন্ত্রের জন্য জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁর ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ আজ দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের এই বিপুল উপস্থিতি দেখা গেছে। তাঁদের মতে, এই জনসমাগম প্রমাণ করে দেশবাসীর হৃদয়ে তাঁর অবস্থান কতটা গভীর।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

জনপ্রিয়

কুমিল্লায় পাহাড় কাটায় এক মামলায় ৮ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, এক্সকেভেটর জব্দ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন জানাজায় লাখো মানুষ

প্রকাশের সময় : ০১:৫৬:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

মেহেদী হাসান রাসেল চ্যানেল এইচডি ২৪

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার পর স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে বিকেল ৩টার পর রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হয় তাঁর জানাজা। জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মানুষের ঢলে সেখানে জনস্রোতের সৃষ্টি হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক জানাজা পরিচালনা করেন।

জানাজার আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত মুসল্লি ও দেশবাসীর কাছে তাঁর মায়ের জন্য দোয়া কামনা করেন। তিনি বলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া যদি কারও কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্টদের তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান। সে ক্ষেত্রে তিনি তা পরিশোধের ব্যবস্থা করবেন। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার জীবনে তাঁর কোনো আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আপসহীন দেশনেত্রীর শেষযাত্রায় শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধি, ৩২ দেশের কূটনীতিক, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী-সমর্থক, আলেম-ওলামা ও সর্বস্তরের মানুষ।
জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, সড়ক ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বসিরউদ্দীন, খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলমসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী সহ বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।
অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফায়জুল হক, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, জাতীয় নাগরিক পার্টির হাসনাত আবদুল্লাহ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদী এবং ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।
উপস্থিত জনতার মতে, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। গণতন্ত্রের জন্য জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁর ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ আজ দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের এই বিপুল উপস্থিতি দেখা গেছে। তাঁদের মতে, এই জনসমাগম প্রমাণ করে দেশবাসীর হৃদয়ে তাঁর অবস্থান কতটা গভীর।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।