
ক্লান্ত বিকেলের রোদে দাঁড়িয়ে একা,
চোখের চশমায় ভাসে হাজারো না বলা কথা।
সাদা শার্টের ভাঁজে লুকিয়ে রাখা কিছু দীর্ঘশ্বাস,
আর হৃদয়ের কোণে জমা আছে ধুলোবালি মাখা বিশ্বাস।
হাসিটা তার ঠোঁটের কোণে ম্লান হয়ে আসে,
হয়তো কোনো হারানো সুর আজও মনে ভাসে।
অতীতের সেই চেনা পথ, ধুলো ওড়া গলি—
সেখানে আজও রয়ে গেছে তার হাজারো পদাবলী।
সে এক রাজপুত্তুর, যার কোনো রাজ্য নেই,
বেদনার নীল আকাশটা তার একান্ত আপন তো বটেই।
তবুও সে হাসে, সবার তরে বিলিয়ে দেয় প্রাণ,
ভেতরটা তার একাকী এক বিরহের গান।
গল্প: একটি অসমাপ্ত উপাখ্যান
রাশেদ সাহেবকে সবাই একটু গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ বলেই চেনে। পরনে সবসময় পরিপাটি ইস্ত্রি করা শার্ট, চোখে চশমা, আর মুখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি। কিন্তু এই শান্ত চেহারার আড়ালে যে এক সমুদ্র আবেগ জমা হয়ে আছে, তা বোধহয় খুব কম মানুষই জানে।
ছোটবেলায় রাশেদ ছিল এক দুরন্ত ছেলে। তার স্বপ্ন ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাকে সময়ের আগেই পরিপক্ক করে তুলেছে। পরিবারের দায়িত্ব আর বাস্তবতার চাপে নিজের অনেক শখ আর স্বপ্নকে সে বিসর্জন দিয়েছে নিঃশব্দে। আজ যখন সে আয়নার সামনে দাঁড়ায়, নিজের মাঝে সেই পুরনো চঞ্চল ছেলেটিকে আর খুঁজে পায় না।
ছবির এই মুহূর্তটিতে সে হয়তো কোনো পুরনো কথা ভাবছিল। হয়তো মনে পড়ছিল শৈশবের সেই হারানো বিকেলগুলো, অথবা প্রিয় কোনো মানুষের সাথে কাটানো শেষ সময়টুকু। তার চোখের এই গভীরতা বলে দেয়, জীবনের অনেক চড়াই-উতরাই সে একা হাতে সামলেছে। সে আজও হাসে, কিন্তু সেই হাসির পেছনে থাকে এক নীরব যুদ্ধের গল্প।
রাশেদ জানে, জীবন মানেই সংগ্রাম। তাই নিজের কষ্টগুলোকে সে নিজের ভেতরেই সযত্নে সাজিয়ে রাখে, আর বাইরের পৃথিবীর কাছে সে হয়ে থাকে এক ভরসার প্রতীক—একটি আবেগময় কিন্তু অবিচল পাহাড়।





















