
স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা ইউনিয়নের হাটখালী এলাকায় জলকদর খাল দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে পাকা ভবন। অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাড়ের খাল দখল করে শেখেরখীল সরকার বাজার ফাঁড়ির মুখ এলাকায় ভবন নির্মাণ করছেন জাহাঙ্গীর আলম নামক এক ব্যক্তি।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষে আইনি নোটিশ প্রদান করা হলেও তারা এগুলোকে তোয়াক্কা না করে নির্মাণ কাজ অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা যায়।
গন্ডামারা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশিদ চৌধুরী (টিপু) মিয়ার নেতৃত্বে পশ্চিম বড়ঘোনা খাটখালী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের ওপর পাড় দখল করে মসজিদের নাম ব্যবহার করে দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে স্থানীয় জনসাধারণের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আশির দশকের দিকে বাঁশখালীর ঠিক মাঝখান দিয়ে সাধনপুরের চৌধুরীহাট থেকে হাটখালী বাজার পর্যন্ত জলকদর খালের ২ পাশে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য বাঁধ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। পরবর্তীতে নানা সময় বিভিন্নভাবে খালপাড়ের এসব দখল করে নিচ্ছে প্রভাবশালীরা।
২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বিকালে গিয়ে দেখা যায়, শেখেরখীল ফাঁড়ির মুখ এলাকায় জলকদর খালের বাঁধের বাইরে গিয়ে পানির উপর তোলা হচ্ছে বিশাল আকৃতির ভবন। খালে প্রায় ২০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫০ ফুট সামনের প্রশস্ত মুখ দখল করে ভবনটির কাজ চলছে। অন্যদিকে গন্ডামারা ইউনিয়নের হাটখালী এলাকায় বিএনপি নেতার নির্দেশে জলকদর খাল দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে সেমিপাকা ভবন।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক শেখারখীল ফাঁড়ির মুখ সরকার বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, খালের পাড় দখল করে একের পর এক পাকা দালান ও সাগর থেকে মাছ আনা নেওয়ার জন্য বরফ মিলের পাশাপাশি ঢক (ফিশিং ঘাট) নির্মাণ করা হচ্ছে। দখলদাররা প্রভাবশালী ও ক্ষমতাশালী। তাই আমরা কোনো প্রতিবাদ করতে পারি না।
এ বিষয়ে জানতে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
অপরদিকে পশ্চিম বড়ঘোনা খাটখালী এলাকায় দোকান নির্মাণকারী গন্ডামারা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশিদ চৌধুরী (টিপু মিয়া) বলেন, এসব জায়গা বাপ-দাদার সম্পত্তি। তারা ওই জায়গা মসজিদের নামে দান করে দিয়েছেন। মসজিদের জন্য মূলত এই দোকানগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু কি আমি দখল করছি, চাম্বল বাংলাবাজার, শেখেরখীল সরকার বাজার, ফাঁড়ির মুখ ও ছনুয়াসহ সব জায়গায় তো দোকান ঘর, বিভিন্ন দালান, বরফ মিল নির্মাণ হয়েছে। আগে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। তারপরে দেখা যাক কী হয়।
এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জামশেদুল আলম জানান, এটা যেহেতু পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিষয় এসব বিষয়ে তারা দেখবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল বলেন, আমরা ইতোমধ্যে শেখেরখীল ও গন্ডামারা দুই ব্যক্তির কাছে অবৈধ নির্মাণ কাজ বন্ধ করার জন্য নোটিশ পাঠিয়েছি। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাড়ে খাল দখল করে কোনো স্থাপনা তৈরির সুযোগ নেই। শিগগিরই দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে কবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা খুব দ্রুত শুরু হবে। আমরা এসব অবৈধ কাজ কোনভাবেই সমর্থন করতে এবং প্রশ্রয় দিতে পারি না।





















