০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

ব্রাহ্মণপাড়া চোখ উপড়ে ফেলার’ বর্বর ঘটনার নেপথ্য কারিগর রুবেল বর্তমানে পলাতক অবস্থায় আমেরিকায় বাদীর বিস্ফোরক অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় : ০৫:৪৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 80

নিজস্ব প্রতিবেদন
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ছাত্রদল নেতা গোলাম কিবরিয়ার দুই চোখ উপড়ে ফেলার নির্মম ঘটনায় অর্থের যোগান ও পরিকল্পনার নেপথ্য কারিগর হিসেবে রুবেলের নাম উঠে এসেছে। ভয়াবহ এই ঘটনার একাধিক আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের হলেও আলোচিত আসামি রুবেল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে দায়ের করা লিখিত অভিযোগে গোলাম কিবরিয়া স্পষ্টভাবে দাবি করেন, এই বর্বর হামলার অর্থদাতা ও মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন রুবেল। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, রুবেল কুমিল্লায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মোবাইল ব্যবসা, ভারত থেকে চোরাচালান এবং মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করে তিনি স্থানীয় মাদক গডফাদারদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন এবং সেই অর্থই এই নারকীয় ঘটনার পেছনে ব্যবহৃত হয়।

বাদী গোলাম কিবরিয়া আরও অভিযোগ করেন, এক সময় রুবেলের বাবা গ্রামের হাটবাজারে দুধ বিক্রি করলেও রুবেল অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে দ্রুত অর্থশালী হয়ে ওঠেন। কুমিল্লার একাধিক মার্কেটে মোবাইলের দোকান ব্যবহার করে চোরাচালান ও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতেন তিনি। পরবর্তীতে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্ত ও গ্রেপ্তার এড়াতে কৌশলে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান রুবেল।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২০ আগস্ট রাত সোয়া ১টার দিকে ঢাকা থেকে কুমিল্লা ফেরার পথে এম এ জাহেরের নেতৃত্বে ২০–২৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি গোলাম কিবরিয়াকে অপহরণ করেন। তাঁকে মাইক্রোবাসে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। এক পর্যায়ে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার পর ছুরি দিয়ে তাঁর দুই চোখ উপড়ে ফেলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এই হামলার পেছনে আর্থিক ও সাংগঠনিক সমর্থন ছিল রুবেলের।

ঘটনার পর আহত অবস্থায় গোলাম কিবরিয়াকে পুলিশ ‘আটক’ দেখিয়ে হাসপাতালে নেয় এবং পরে মিথ্যা মামলায় আদালতে চালান করে। তাঁর মায়ের কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজ ও খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়—যাতে মামলা দায়ের করতে না পারেন। দীর্ঘদিন ভয় ও চাপের মুখে থাকায় তিনি তখন আইনি প্রতিকার পাননি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

গোলাম কিবরিয়া বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগে অধ্যয়নরত। তিনি কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক নেতা। অভিযোগ দাখিলের সময় তাঁর দুই ভাই ইয়াসিন আরাফাত ও মো. নেয়ামত রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে রুবেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে । আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রুবেলের বর্তমান অবস্থান, অবৈধ সম্পদের উৎস এবং বিদেশে পলাতক থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জনপ্রিয়

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ-এর আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

ব্রাহ্মণপাড়া চোখ উপড়ে ফেলার’ বর্বর ঘটনার নেপথ্য কারিগর রুবেল বর্তমানে পলাতক অবস্থায় আমেরিকায় বাদীর বিস্ফোরক অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৫:৪৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদন
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ছাত্রদল নেতা গোলাম কিবরিয়ার দুই চোখ উপড়ে ফেলার নির্মম ঘটনায় অর্থের যোগান ও পরিকল্পনার নেপথ্য কারিগর হিসেবে রুবেলের নাম উঠে এসেছে। ভয়াবহ এই ঘটনার একাধিক আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের হলেও আলোচিত আসামি রুবেল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে দায়ের করা লিখিত অভিযোগে গোলাম কিবরিয়া স্পষ্টভাবে দাবি করেন, এই বর্বর হামলার অর্থদাতা ও মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন রুবেল। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, রুবেল কুমিল্লায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মোবাইল ব্যবসা, ভারত থেকে চোরাচালান এবং মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করে তিনি স্থানীয় মাদক গডফাদারদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন এবং সেই অর্থই এই নারকীয় ঘটনার পেছনে ব্যবহৃত হয়।

বাদী গোলাম কিবরিয়া আরও অভিযোগ করেন, এক সময় রুবেলের বাবা গ্রামের হাটবাজারে দুধ বিক্রি করলেও রুবেল অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে দ্রুত অর্থশালী হয়ে ওঠেন। কুমিল্লার একাধিক মার্কেটে মোবাইলের দোকান ব্যবহার করে চোরাচালান ও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতেন তিনি। পরবর্তীতে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্ত ও গ্রেপ্তার এড়াতে কৌশলে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান রুবেল।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২০ আগস্ট রাত সোয়া ১টার দিকে ঢাকা থেকে কুমিল্লা ফেরার পথে এম এ জাহেরের নেতৃত্বে ২০–২৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি গোলাম কিবরিয়াকে অপহরণ করেন। তাঁকে মাইক্রোবাসে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। এক পর্যায়ে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার পর ছুরি দিয়ে তাঁর দুই চোখ উপড়ে ফেলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এই হামলার পেছনে আর্থিক ও সাংগঠনিক সমর্থন ছিল রুবেলের।

ঘটনার পর আহত অবস্থায় গোলাম কিবরিয়াকে পুলিশ ‘আটক’ দেখিয়ে হাসপাতালে নেয় এবং পরে মিথ্যা মামলায় আদালতে চালান করে। তাঁর মায়ের কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজ ও খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়—যাতে মামলা দায়ের করতে না পারেন। দীর্ঘদিন ভয় ও চাপের মুখে থাকায় তিনি তখন আইনি প্রতিকার পাননি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

গোলাম কিবরিয়া বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগে অধ্যয়নরত। তিনি কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক নেতা। অভিযোগ দাখিলের সময় তাঁর দুই ভাই ইয়াসিন আরাফাত ও মো. নেয়ামত রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে রুবেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে । আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রুবেলের বর্তমান অবস্থান, অবৈধ সম্পদের উৎস এবং বিদেশে পলাতক থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।