
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি- মো রিয়াদ হোসেন:
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর মা ও মেয়ে জোড়াখুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। দীর্ঘ ১০ দিনের টানা তদন্ত ও অভিযান শেষে ঘটনার মূল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মোবাইল ফোনের শব্দে ঘুমের ব্যাঘাত থেকেই ক্ষিপ্ত হয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১টায় সিরাজদিখান থানাধীন রাজানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজানগর এলাকায় মুরুজ্জামানের বসতবাড়ির একটি ভাড়া ঘর থেকে আমেনা বেগম (৩১) ও তার মেয়ে মরিয়ম (৮)-এর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। নিহত আমেনা বেগম মৃত আব্দুল লতিফের কন্যা।
সংবাদ পেয়ে শেখরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএমসহ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সুরতহাল কার্যক্রম তদারকি করেন।
এ ঘটনায় নিহত আমেনা বেগমের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সিরাজদিখান থানায় মামলা নং-৩২ (তারিখ ১৯/০১/২০২৬), ধারা ৩০২/৩৪ দণ্ডবিধি অনুযায়ী মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে শেখরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সঞ্জিত কুমার ঘোষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. ফিরোজ কবির ও সিরাজদিখান সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে একটি চৌকস দল তদন্তে নামে।
তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়া আলী (২৮) ঘটনার পর থেকেই পলাতক থাকায় তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের মাধ্যমে তার প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা হয়।গ্রেফতারকৃত আসামি হলেন মোহাম্মদ আলী হোসেন ওরফে আলী হোসেন (২৮)।
পুলিশ জানায়, আসামির অবস্থান গজারিয়া ও কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় শনাক্ত হলে তিনদিনের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান পরিচালনা করা হয়। অবশেষে গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে গজারিয়া থানাধীন ঢাকা-কুমিল্লা মহাসড়কের দাউদকান্দি ব্রিজসংলগ্ন পাখির মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করেছে, নিহত আমেনা বেগম ও সে পাশাপাশি কক্ষে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করত। মোবাইল ফোনের উচ্চ শব্দ ও শিশুর কান্নায় তার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটত। ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ৭টায় মোবাইল ফোনের শব্দ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে কাঠের ডাসা দিয়ে আমেনা বেগমের মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করে। ঘটনাটি দেখে মরিয়ম তার মাকে বাঁচাতে কাকুতি-মিনতি করলে তাকেও একইভাবে আঘাত করে হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঠের ডাসা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।























