
ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভাধীন সূর্যপাশা গ্রামে কওমী মাদরাসা প্রতিষ্ঠার নাম করে ব্যাক্তি মালিকানাধীন রেকর্ডীয় সম্পত্তি জবর দখল করার অভিযোগ উঠেছে সাইফুল ইসলাম ইমাম নামের জনৈক এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে।
এ অভিযোগে বুধবার (২৪শে ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় নলছিটি প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনের অয়োজন করে নলছিটি পৌর এলাকার সূর্যপাশা গ্রামের ভুক্তভোগী জনগোষ্ঠী। সাংবাদিক সম্মেলনে এলাকাবাসির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান মো: অনোয়ার হোসেন চুন্নু।
তিনি জানান, কয়েক বছর আগে নলছিটি-বরিশাল আঞ্চলিক সড়কের পাশে নলছিটি পৌরসভাধীন সূর্যপাশা গ্রামে সম্মিলিতভাবে একটি কওমী মাদরাসা প্রতিষ্ঠার লক্ষে এলাকাবাসির নিকট প্রস্তাব করেন উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের সাইফুল ইসলাম ইমাম।
আলাপ আলোচনায় একমত পোষন করেন তার। এরপর মাদরাসার জন্য ওই এলাকার দু’একজনের কাছ থেকে কিছু জমি কিনে এলাকাবাসিদের না জানিয়ে এবং তার ক্রয়কৃত জমির পার্শবর্তী জমির মালিকদের সাথে জমির সীমানা নির্ধারণ না করে মাদরাসার ভবন তৈরীর জন্য জমিতে বালু ভরাটের কাজ শুরু করেন অভিযুক্ত ইমাম। বালু দিয়ে তার ক্রয়কৃত জমির সঙ্গে পাশর্^বতী অন্য মালিকানাধীন জমিও ভরাট করে মাদরাসা ভবনের কাজ শুরু করেন তিনি।
তার এই অবৈধ কাজে বাধা দেন ভু’ক্তভোগীরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তৎকালীন আওয়ামী ক্যাডার বাহিনী দিয়ে তার জবর দখল করা জমির মালিক আনোয়ার চুন্নু, নূরে আলম, শাহ আলম মাহবুবুর রহমান, রশিদ খলিফা প্রমুখ ব্যাক্তিকে হুমকি ধমকি দিতে থাকেন বলে সাংবাদিক সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
আনোয়ার হোসেন চুন্নু আরও জানান, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৫ই আগষ্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরে এলাকাবাসি তাদের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করতে পারলেও এলাকার ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা বিবেচনা করে তার সেটা করেন নি।
তারা বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের লক্ষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে একটি শালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ উপস্থিত হলে শালিসগণ উভয়পক্ষকে তাদের কাগজপত্র জমা দিতে বলেন। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসি তাদের কাগজপত্র জমা দিলেও সাইফুল ইসলাম এ পর্যন্ত কোন কাগজপত্র জমা না দিয়ে শালিসগণতে অবজ্ঞা করে বালি ভরাটকৃত অন্যে জমিতে ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
এলাকাবাসি সেই বন্ধ করে দিলে অর্থের বিনিময়ে কিছু পথভ্রষ্ট সাংবাদিককে দিয়ে জমির প্রকৃত মালিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে বরিশালের স্থানীয ১টি পত্রিকা সহ কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয় বলে সাংবাদিক সম্মেলনে উল্লেখ করেন আনোয়ার হোসেন চুন্নু।
তিনি আরও জানান, গাজিপুরের শাহ আলমবাড়ি এলাকায় সাইফুল ইসলাম ইমামের সিএনজি ও তিতাস গ্যাস চুরির ব্যাবসা চলমান আছে।
সেখানে তিনি আশেপাশের লোকজনকে নানা হয়রানি করে আসছেন বলে গত এক বছর আগে টিভি চ্যানেল ডিবিসি সহ কয়েকটি চ্যানেলে প্রচার করা করা হয়েছে। সাইফুল ইসলাম ইমামের এ অবৈধ চোরা কার বন্ধে দুদক ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আনোয়ার হোসেন চুন্নু।
সাংবাদিক সম্মেলনে নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো:আনিচুর রহমান (হেলাল) খান, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তৌহিদ আলম মান্না, পৌর এিনপির সাধারণ সম্পাদক মো: সরওয়া হোসেন তালুকদার সহ ভুক্তভোগী এলাকাসি উপস্থিত ছিলেন।






















