
ধীরে ধীরে সে বেড়ে ওঠে, শেখে, গড়ে তোলে নিজের চেতনা, মূল্যবোধ, বিবেক। এই বিবেক, এই নৈতিকতা এটাই তাকে পশুর থেকে আলাদা করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, মানুষ কি আজও সেই পার্থক্য ধরে রাখতে পারছে? নাকি ভেতরে ভেতরে তার মৃত্যু ঘটছে?
আমরা এখন এমন এক সমাজে বাস করি, যেখানে মানুষ বেঁচে থাকে, কিন্তু তার মনুষ্যত্ব মৃত। একজন বিপদে পড়লে আশপাশের মানুষ দাঁড়িয়ে ভিডিও করে, সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে না। অন্যায় চোখের সামনে ঘটলেও কেউ প্রতিবাদ করে না, বরং ভাবে “আমার কী?” কেউ অসহায়ের কান্না শুনলেও মন গলে না, বরং সেই কান্না এখন আমাদের বিনোদনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই যে অনুভূতিহীনতা, এই যে নির্লজ্জ নিরবতা এটাই কি মনুষ্যত্বের মৃত্যু নয়?
লোভ আমাদের বিবেক কেড়ে নিয়েছে। ক্ষমতার নেশা আমাদের অন্ধ করে দিয়েছে। আমরা এতটাই স্বার্থপর হয়ে গেছি যে, অন্যের ব্যথা আমাদের স্পর্শ করে না, অন্যের ক্ষতি দেখে আমরা নির্লিপ্ত থাকি। কিন্তু এই নির্লিপ্ততাই আমাদের আসল মৃত্যু। দেহের মৃত্যু একদিন হবেই, কিন্তু তার চেয়ে ভয়ঙ্কর হলো সেই মৃত্যু, যখন আমাদের হৃদয় আর কিছু অনুভব করে না, আমাদের বিবেক আর সত্য-মিথ্যার তফাৎ করতে পারে না।
আমরা প্রতিদিন আয়নার সামনে দাঁড়াই, কিন্তু কি সত্যিই নিজেদের দেখি? নিজের ভিতরে কি কখনো তাকাই? আমরা কি অনুভব করি, আমাদের মনুষ্যত্ব আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে? আমরা কি বুঝতে পারছি, ভালো মানুষ থাকার জন্য এখন লড়াই করতে হয়? একসময় যা স্বাভাবিক ছিল, তা ই এখন বিরল হয়ে গেছে।
সমাজ বদলানোর কথা বলার আগে আমাদের নিজেদের বদলাতে হবে। যদি আমরা সত্যি বিশ্বাস করি যে মানবতা হারিয়ে যাচ্ছে, তাহলে আমাদের মধ্য থেকেই কেউ একজনকে সেই মানবতার আলো হাতে তুলে নিতে হবে। যদি আমরা ন্যায়বিচার, সততা, সহমর্মিতা, ভালোবাসা, দয়া, আত্মত্যাগ এসব গুণগুলোকে মরতে দিই, তাহলে মানুষ হিসেবে আমাদের অস্তিত্বই শেষ হয়ে যাবে।
আসুন, প্রশ্ন করি আমি কি সত্যিকারের মানুষ? নাকি শুধু মানুষসদৃশ একটা প্রাণী? যদি সত্যিকারের মানুষ হতে চাই, তবে আমাদের ভেতরের সেই মৃত অংশকে জাগিয়ে তুলতে হবে, হারিয়ে যাওয়া মনুষ্যত্বকে খুঁজে আনতে হবে। নয়তো একদিন আমরা শুধুই স্মৃতিতে বেঁচে থাকবো, কিন্তু মানবতা হারিয়ে যাবে চিরতরে।






















