০৪:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ব্রাহ্মণপাড়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ পরিবারের দাবি আত্মহত্যা নয় হত্যা

  • প্রকাশের সময় : ০৭:১৯:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • 53

ব্রাহ্মণপাড়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ।পরিবারের দাবি আত্মহত্যা নয়, হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার মাহামুদুল : কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ফারজানা আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা—এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা সদর ইউনিয়নের কল্পবাস এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফারজানা আক্তার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মিয়াজী বাড়ির মেহেদী হাসান (অনিক)-এর স্ত্রী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার নয়নপুর গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে ফারজানা ও অনিকের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী অনিক মাদকসেবন হয়ে প্রায়ই স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে ফারজানা একাধিকবার বাবার বাড়িতে ফিরে যান। পরে পারিবারিকভাবে মীমাংসার মাধ্যমে তাকে আবার স্বামীর কাছে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, অনিক যৌতুকের দাবিতেও তাকে নির্যাতন করতেন। এমনকি মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে তাকে প্রবাসে পাঠানোর জন্য অর্থ সহায়তাও দেওয়া হয়। কিন্তু মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে দেশে ফিরে এসে তিনি পুনরায় মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন।

পরবর্তীতে প্রায় এক বছর পর ফারজানাকে অনিকের কাছ থেকে নিয়ে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হলেও,অনিক বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে তাকে আবার নিজের কাছে ফিরিয়ে আনেন। প্রায় সাত মাস পর ফারজানা পুনরায় প্রথম স্বামীর সংসারে ফিরে আসেন। গত চার মাস ধরে তারা কল্পবাস এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ফারজানাকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে সাজানো হয়েছে।
অন্যদিকে, স্বামী মেহেদী হাসান (অনিক) দাবি করেন, মোবাইল ফোন ব্যবহার ও টিকটক নিয়ে ঘটনার আগের রাতে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরদিন সকালে তিনি কাজে বের হয়ে যান।

পরে নাস্তা নিয়ে বাসায় ফিরে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা খুলে ঘরের তীরের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ফারজানাকে ঝুলন্ত দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) টমাস বড়ুয়া জানান,মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জনপ্রিয়

সিংড়ায় পুকুরে ডুবে দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু

ব্রাহ্মণপাড়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ পরিবারের দাবি আত্মহত্যা নয় হত্যা

প্রকাশের সময় : ০৭:১৯:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

ব্রাহ্মণপাড়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ।পরিবারের দাবি আত্মহত্যা নয়, হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার মাহামুদুল : কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ফারজানা আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা—এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা সদর ইউনিয়নের কল্পবাস এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফারজানা আক্তার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মিয়াজী বাড়ির মেহেদী হাসান (অনিক)-এর স্ত্রী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার নয়নপুর গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে ফারজানা ও অনিকের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী অনিক মাদকসেবন হয়ে প্রায়ই স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে ফারজানা একাধিকবার বাবার বাড়িতে ফিরে যান। পরে পারিবারিকভাবে মীমাংসার মাধ্যমে তাকে আবার স্বামীর কাছে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, অনিক যৌতুকের দাবিতেও তাকে নির্যাতন করতেন। এমনকি মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে তাকে প্রবাসে পাঠানোর জন্য অর্থ সহায়তাও দেওয়া হয়। কিন্তু মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে দেশে ফিরে এসে তিনি পুনরায় মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন।

পরবর্তীতে প্রায় এক বছর পর ফারজানাকে অনিকের কাছ থেকে নিয়ে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হলেও,অনিক বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে তাকে আবার নিজের কাছে ফিরিয়ে আনেন। প্রায় সাত মাস পর ফারজানা পুনরায় প্রথম স্বামীর সংসারে ফিরে আসেন। গত চার মাস ধরে তারা কল্পবাস এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ফারজানাকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে সাজানো হয়েছে।
অন্যদিকে, স্বামী মেহেদী হাসান (অনিক) দাবি করেন, মোবাইল ফোন ব্যবহার ও টিকটক নিয়ে ঘটনার আগের রাতে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরদিন সকালে তিনি কাজে বের হয়ে যান।

পরে নাস্তা নিয়ে বাসায় ফিরে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা খুলে ঘরের তীরের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ফারজানাকে ঝুলন্ত দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) টমাস বড়ুয়া জানান,মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”