
কুমিল্লা প্রতিনিধি: বাবার সম্পত্তি থেকে বোনকে উচ্ছেদ: ভাইয়ের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও পুলিশ-এসি ল্যান্ডের সহযোগিতায় উচ্ছেদের অভিযোগে দেওয়ানি মামলা
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় এক অসহায় বোনকে তাঁর বাবার পৈত্রিক সম্পত্তির ওয়ারিশ থেকে বঞ্চিত করার লক্ষ্যে জালিয়াতি ও একতরফা ডিক্রি জারির মাধ্যমে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী বোন নূরজাহান বেগমের সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে তাঁর আপন ভাই খোরশেদ মিয়া (আলম) গং পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে তাঁকে অন্যায়ভাবে তাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ বা বৈধ কাগজপত্র যাচাই না করেই ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড সশরীরে উপস্থিত হয়ে আদালতের একতরফা রায়কে পুঁজি করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছেন বলে তীব্র ক্ষোভ ও অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী নারী। বর্তমানে পৈত্রিক অধিকার ও ন্যায়বিচারের আশায় কুমিল্লা জেলা জজ আদালতের ১ম সিভিল আদালতে একটি নতুন দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন নূরজাহান বেগম।
ঘটনার বিবরণ ও মামলার পটভূমি:
আদালতের নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া থানাধীন শশীদল গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের কন্যা নূরজাহান বেগম তাঁর বাবার রেখে যাওয়া পৈত্রিক সম্পত্তিতে আইনগত ওয়ারিশদার। কিন্তু তাঁর ভাই খোরশেদ মিয়া ও অন্যান্য বিবাদীগণ বোন নূরজাহান বেগমকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করে সমস্ত সম্পত্তি একচ্ছত্রভাবে আত্মসাৎ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।
এরই ধারাবাহিকতায়, বিবাদীপক্ষ পূর্বে মোকাদ্দমা নং-১৯২/২০১২ইং মূলে একটি বণ্টন মামলা দায়ের করে। অভিযোগ রয়েছে, নূরজাহান বেগমকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে, ভুয়া ও যোগসাজশমূলক প্রক্রিয়া অবলম্বন করে বিগত ১৯/০৪/২০১৫ইং তারিখে একটি প্রাথমিক একতরফা ডিক্রি এবং পরবর্তীতে ২৫/০৩/২০২১ইং তারিখে ফাইনাল ডিক্রি হাসিল করে ভাই খোরশেদ আলম গং।
প্রশাসন ও পুলিশের বিতর্কিত ভূমিকা:
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এই বিতর্কিত ও বে-আইনি একতরফা ডিক্রিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ভাই খোরশেদ আলম স্থানীয় প্রশাসনকে প্রভাবিত করেন। ঘটনার দিন কোনো প্রকার আগাম নোটিশ প্রদান না করে এবং নূরজাহান বেগমের বৈধ কোনো কাগজপত্র বা বক্তব্য আমলে না নিয়েই ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ এবং এসি ল্যান্ড মহোদয় সশরীরে ঘটনাস্থলে হাজির হন। তারা আদালতের ওই বিতর্কিত রায়কে প্রাধান্য দিয়ে নূরজাহান বেগমকে তাঁর বাবার ভিটেমাটি ও সম্পত্তি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে দেন। একজন অসহায় নারী হিসেবে নিজের পৈত্রিক নিবাস থেকে এভাবে প্রশাসনের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আদালতের দ্বারস্থ ভুক্তভোগী বোন:
প্রশনের এই আকস্মিক অ্যাকশন এবং ভাইয়ের চরম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে নূরজাহান বেগম মোকাম কুমিল্লার বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ১ম সিভিল আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন (দেওয়ানি মোকাদ্দমা নং- /২০২৬ইং)।
মামলায় ১নং ১ম-১ম(খ) তফসিলভুক্ত এজমালি বিত্ত বণ্টন এবং ২য় তফসিলভুক্ত ভূমির ওপর পূর্বের মামলার (১৯২/২০১২ইং) একতরফা ও ফাইনাল ডিক্রিকে বে-আইনি, বে-ধারা, যোগসাজশমূলক ও অকার্যকর মর্মে রদ ও রহিত করার দাবি জানানো হয়েছে। মামলায় নালিশি সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য বা তায়দাদ ধরা হয়েছে ২৫,০৫,৪২০/- (পঁচিশ লক্ষ পাঁচ হাজার চারশত বিশ) টাকা মাত্র।
মামলার বিবাদীগণ:
উক্ত মামলায় নূরজাহান বেগম বাদী হয়ে তাঁর ভাই খোরশেদ মিয়া, রেহেনা বেগম, সাহেনা বেগম, মোঃ রুবেল, মোঃ কাউছার, সেকান্দর, বাবু, রিয়েল, শাহ জাহান, সাজু, লুৎফা, ফতু এবং বিলকিছ সহ মোট ১৩ জনকে বিবাদী করেছেন। নালিশি ভূমির বিবরণীতে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল মৌজার সাবেক ১৮৯ হালে ৩২নং উত্তর শশীদল এবং সাবেক ১৮১ হালে ৩৩নং দক্ষিণ শশীদল মৌজার সিএস ও আরএস খতিয়ানভুক্ত বিভিন্ন দাগের মোট ২২৯ শতক এবং ১০৮ শতক ভূমির কথা উল্লেখ রয়েছে।
न्यायবিচারের আকুতি:
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী নূরজাহান বেগম বলেন, “আমার আপন ভাই খোরশেদ আলম আমাকে বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে গোপনে ভুয়া রায় তৈরি করেছে। পুলিশ ও এসি ল্যান্ড স্যার আমার কোনো কথা শুনলেন না, কোনো কাগজ দেখলেন না। বিনা নোটিশে আমাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হলো। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং বিজ্ঞ আদালতের কাছে আমার পৈত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য ও এই অন্যায় উচ্ছেদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
এই বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, একজন বোনকে তাঁর বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা এবং প্রশাসনের এভাবে একপাক্ষিক ভূমিকা নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে অসহায় নূরজাহান বেগমকে তাঁর প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।














