০৭:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আব্দুল কাদের বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান অভিনেতা ছিলেন

  • প্রকাশের সময় : ০৪:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • 68
অভিনয় জগতের পাশাপাশি নাট্যকার জগতেও তার বেশ সুনাম রয়েছে। তিনি ১৯৫১ সালের ১ লা এপ্রিল মুন্সিগঞ্জ জেলার টংগিবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।তার পিতার নাম আব্দুল জলিল এবং মাতার নাম আনোয়ারা খাতুন।তার স্ত্রীর নাম ছিলো খাইরুন্নেছা কাদের।বিবাহিত জীবনে এই দম্পতি এক ছেলে ও মেয়ের বাবা-মা ছিলেন।তিনি সোনারং হাইস্কুল ও বন্দর হাইস্কুল থেকে এস.এস.সি সম্পন্ন করে ঢাকা কলেজ থেকে এইচ.এস.সি সম্পন্ন করেছিলেন।পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বিভাগে বিএ অনার্স ও এমএ সম্পন্ন করেছিলেন।তার নাট্যজীবন শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়েই। ১৯৭২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন তিনি পরপর তিন বছর মহসিন হল ছাত্র সংসদের নাট্যসম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।এছাড়াও ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ডাকসু নাট্যচক্রের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলেন। ১৯৭৩ সাল থেকে থিয়েটার নাট্যগোষ্ঠীর সদস্য এবং চার বছর যুগ্ম-সম্পাদকের ও ছয় বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকায় আমেরিকান কলেজ থিয়েটার ট্রুপ কর্তৃক আয়োজিত অভিনয় কর্মশালায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন।এছাড়াও বাংলাদেশ টেলিভিশনের নাট্যশিল্পী ও নাট্যকারদের একমাত্র সংগঠন টেলিভিশন নাট্যশিল্পী ও নাট্যকার সংসদ’ টেনাশিনাস -এর সহ-সভাপতি ছিলেন।
নাট্যজগতের পাশাপাশি অভিনয় জগতেও তিনি বিপুল সাড়া ফেলেছিলেন।তার প্রকৃত নামের চেয়েও বেশি একটা সময় তার মুখটা পরিচিত ছিলো “বদি” নামে। ১৯৯৪ সালে কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের লেখা ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে তিনি বদি চরিত্রে অভিনয় করে অনেক সুনাম অর্জন করেছিলেন। এছাড়া তিনি জনপ্রিয় বাংলাদেশী ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে তার মামা চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। তবে তিনি অভিনয় জগতে প্রথম পা রাখেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকে অমল চরিত্রের মাধ্যমে।এছাড়াও অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনেও অংশ নিয়েছিলেন।তার অভিনীত নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে__
কোথাও কেউ নেই,মাটির কোলে,নক্ষত্রের রাত,শীর্ষবিন্দু,সবুজ সাথী,তিন টেক্কা,যুবরাজ,আগুন লাগা সন্ধ্যা,এই সেই কণ্ঠস্বর,আমার দেশের লাগি,প্যাকেজ সংবাদ,সবুজ ছায়া,কার ছায়া ছিল,দীঘল গায়ের কন্যা,কুসুম কুসুম ভালোবাসা,নীতু তোমাকে ভালোবাসি,আমাদের ছোট নদী ইত্যাদি।
অভিনয় জগতে এসে তিনি বেশ কিছু পুরষ্কার ও লাভ করেছেন।তা হলো__
টেনাশিনাস পুরস্কার
মহানগরী সংস্কৃত গোষ্ঠী পুরস্কার
জাদুকর পিসি সরকার পুরস্কার
টেলিভিশন শ্রোতা ফোরাম পুরস্কার।
আব্দুল কাদের অভিনয়ে জগতে অনেক জনপ্রিয় হলেও তার মূল পেশা ছিলো শিক্ষকতা।এমনকি তার পেশাগত জীবনও শুরু হয়েছিলো শিক্ষকতা দিয়ে। তিনি সিংগাইর ডিগ্রি কলেজ এবং মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং কলেজে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা করতেন এক সময়।পরবর্তীতে বিটপী বিজ্ঞাপনী সংস্থায় এক্সিকিউটিভ হিসেবে চাকরি করেন। ১৯৭৯ সাল থেকে বহুজাতিক কোম্পানী ‘বাটা’তে উচ্চপদস্থ পদে কর্মরত ছিলেন।
এই খ্যাতিমান ব্যাক্তি খুব অল্প সময়েই আমাদের ছেড়ে চলে যান।মাত্র ৬৯ বছর বয়স ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২৬ ডিসেম্বর ২০২০ শনিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়
জনপ্রিয়

আব্দুল কাদের বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান অভিনেতা ছিলেন

প্রকাশের সময় : ০৪:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
অভিনয় জগতের পাশাপাশি নাট্যকার জগতেও তার বেশ সুনাম রয়েছে। তিনি ১৯৫১ সালের ১ লা এপ্রিল মুন্সিগঞ্জ জেলার টংগিবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।তার পিতার নাম আব্দুল জলিল এবং মাতার নাম আনোয়ারা খাতুন।তার স্ত্রীর নাম ছিলো খাইরুন্নেছা কাদের।বিবাহিত জীবনে এই দম্পতি এক ছেলে ও মেয়ের বাবা-মা ছিলেন।তিনি সোনারং হাইস্কুল ও বন্দর হাইস্কুল থেকে এস.এস.সি সম্পন্ন করে ঢাকা কলেজ থেকে এইচ.এস.সি সম্পন্ন করেছিলেন।পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বিভাগে বিএ অনার্স ও এমএ সম্পন্ন করেছিলেন।তার নাট্যজীবন শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়েই। ১৯৭২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন তিনি পরপর তিন বছর মহসিন হল ছাত্র সংসদের নাট্যসম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।এছাড়াও ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ডাকসু নাট্যচক্রের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলেন। ১৯৭৩ সাল থেকে থিয়েটার নাট্যগোষ্ঠীর সদস্য এবং চার বছর যুগ্ম-সম্পাদকের ও ছয় বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকায় আমেরিকান কলেজ থিয়েটার ট্রুপ কর্তৃক আয়োজিত অভিনয় কর্মশালায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন।এছাড়াও বাংলাদেশ টেলিভিশনের নাট্যশিল্পী ও নাট্যকারদের একমাত্র সংগঠন টেলিভিশন নাট্যশিল্পী ও নাট্যকার সংসদ’ টেনাশিনাস -এর সহ-সভাপতি ছিলেন।
নাট্যজগতের পাশাপাশি অভিনয় জগতেও তিনি বিপুল সাড়া ফেলেছিলেন।তার প্রকৃত নামের চেয়েও বেশি একটা সময় তার মুখটা পরিচিত ছিলো “বদি” নামে। ১৯৯৪ সালে কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের লেখা ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে তিনি বদি চরিত্রে অভিনয় করে অনেক সুনাম অর্জন করেছিলেন। এছাড়া তিনি জনপ্রিয় বাংলাদেশী ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে তার মামা চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। তবে তিনি অভিনয় জগতে প্রথম পা রাখেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকে অমল চরিত্রের মাধ্যমে।এছাড়াও অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনেও অংশ নিয়েছিলেন।তার অভিনীত নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে__
কোথাও কেউ নেই,মাটির কোলে,নক্ষত্রের রাত,শীর্ষবিন্দু,সবুজ সাথী,তিন টেক্কা,যুবরাজ,আগুন লাগা সন্ধ্যা,এই সেই কণ্ঠস্বর,আমার দেশের লাগি,প্যাকেজ সংবাদ,সবুজ ছায়া,কার ছায়া ছিল,দীঘল গায়ের কন্যা,কুসুম কুসুম ভালোবাসা,নীতু তোমাকে ভালোবাসি,আমাদের ছোট নদী ইত্যাদি।
অভিনয় জগতে এসে তিনি বেশ কিছু পুরষ্কার ও লাভ করেছেন।তা হলো__
টেনাশিনাস পুরস্কার
মহানগরী সংস্কৃত গোষ্ঠী পুরস্কার
জাদুকর পিসি সরকার পুরস্কার
টেলিভিশন শ্রোতা ফোরাম পুরস্কার।
আব্দুল কাদের অভিনয়ে জগতে অনেক জনপ্রিয় হলেও তার মূল পেশা ছিলো শিক্ষকতা।এমনকি তার পেশাগত জীবনও শুরু হয়েছিলো শিক্ষকতা দিয়ে। তিনি সিংগাইর ডিগ্রি কলেজ এবং মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং কলেজে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা করতেন এক সময়।পরবর্তীতে বিটপী বিজ্ঞাপনী সংস্থায় এক্সিকিউটিভ হিসেবে চাকরি করেন। ১৯৭৯ সাল থেকে বহুজাতিক কোম্পানী ‘বাটা’তে উচ্চপদস্থ পদে কর্মরত ছিলেন।
এই খ্যাতিমান ব্যাক্তি খুব অল্প সময়েই আমাদের ছেড়ে চলে যান।মাত্র ৬৯ বছর বয়স ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২৬ ডিসেম্বর ২০২০ শনিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়