০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

দেবিদ্বার ট্রাফিক বিভাগের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ, পিকআপ আটক; ‘মাসুম’কে ঘিরে নানা প্রশ্ন

  • প্রকাশের সময় : ০২:১৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • 19

কুমিল্লা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা ট্রাফিক বিভাগের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লার মাধবপুর এলাকার জিলানী পরিবহন অ্যান্ড মৎস্য আড়তের একটি পিকআপ ভ্যান আটককে কেন্দ্র করে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে।

অভিযোগকারীর দাবি, পিকআপ ভ্যানটি আটক করার আগে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়ির কাগজপত্র অবৈধ উল্লেখ করে পিকআপটি আটক করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় গাড়ির চালকের কাছ থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে তা ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরে গাড়ির মালিকপক্ষকে ফোন করে বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চালককে মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগকারী দাবি করেন।
অভিযোগকারী আরও জানান, ঘটনার পর মাসুম নামে এক ব্যক্তি চালককে বলেন, টাকা দিতে না পারলে কুমিল্লা থেকে মামলার কাগজপত্র ঠিক করে আনতে হবে।

এ ছাড়া অভিযোগকারীর দাবি, মাসুম নামের ওই ব্যক্তি পুলিশের সদস্য না হয়েও ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এর আগেও মিজানুর রহমানের সহযোগী হিসেবে পরিচিত ওই মাসুম তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এখানেই উঠছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—মাসুম যদি পুলিশের কোনো সদস্য না হন, তাহলে তিনি কীভাবে ট্রাফিক বিভাগের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হচ্ছেন? সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা কী? সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রকৃত স্বরূপ কী?

সার্জেন্ট মিজানের বক্তব্য:

এ বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা সার্জেন্ট মিজানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মাসুম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি মাসুমকে চেনেন না বলে জানান।

তবে অভিযোগকারীর বক্তব্যে মাসুমের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসায় এ নিয়ে আরও অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি পিকআপ আটকের প্রকৃত কারণ, চালকের লাইসেন্স ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ এবং টাকা দাবির বিষয়গুলোও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, পিকআপ আটকের বৈধতা যাচাই এবং ট্রাফিক বিভাগের কার্যক্রমে কোনো বহিরাগত ব্যক্তির অননুমোদিত সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

জনমনে প্রশ্ন—আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা কোনো বিভাগের কার্যক্রমে যদি বহিরাগত ব্যক্তির অননুমোদিত প্রভাব থাকে, তাহলে সাধারণ পরিবহন মালিক ও চালকদের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে কীভাবে?

রক্তাক্ত অবস্থায় অভিযোগ দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার রুবেল, মামলা গ্রহণে পুলিশের দ্বৈত ভূমিকার অভিযোগ

দেবিদ্বার ট্রাফিক বিভাগের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ, পিকআপ আটক; ‘মাসুম’কে ঘিরে নানা প্রশ্ন

প্রকাশের সময় : ০২:১৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা ট্রাফিক বিভাগের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লার মাধবপুর এলাকার জিলানী পরিবহন অ্যান্ড মৎস্য আড়তের একটি পিকআপ ভ্যান আটককে কেন্দ্র করে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে।

অভিযোগকারীর দাবি, পিকআপ ভ্যানটি আটক করার আগে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়ির কাগজপত্র অবৈধ উল্লেখ করে পিকআপটি আটক করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় গাড়ির চালকের কাছ থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে তা ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরে গাড়ির মালিকপক্ষকে ফোন করে বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চালককে মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগকারী দাবি করেন।
অভিযোগকারী আরও জানান, ঘটনার পর মাসুম নামে এক ব্যক্তি চালককে বলেন, টাকা দিতে না পারলে কুমিল্লা থেকে মামলার কাগজপত্র ঠিক করে আনতে হবে।

এ ছাড়া অভিযোগকারীর দাবি, মাসুম নামের ওই ব্যক্তি পুলিশের সদস্য না হয়েও ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এর আগেও মিজানুর রহমানের সহযোগী হিসেবে পরিচিত ওই মাসুম তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এখানেই উঠছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—মাসুম যদি পুলিশের কোনো সদস্য না হন, তাহলে তিনি কীভাবে ট্রাফিক বিভাগের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হচ্ছেন? সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা কী? সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রকৃত স্বরূপ কী?

সার্জেন্ট মিজানের বক্তব্য:

এ বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা সার্জেন্ট মিজানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মাসুম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি মাসুমকে চেনেন না বলে জানান।

তবে অভিযোগকারীর বক্তব্যে মাসুমের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসায় এ নিয়ে আরও অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি পিকআপ আটকের প্রকৃত কারণ, চালকের লাইসেন্স ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ এবং টাকা দাবির বিষয়গুলোও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, পিকআপ আটকের বৈধতা যাচাই এবং ট্রাফিক বিভাগের কার্যক্রমে কোনো বহিরাগত ব্যক্তির অননুমোদিত সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

জনমনে প্রশ্ন—আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা কোনো বিভাগের কার্যক্রমে যদি বহিরাগত ব্যক্তির অননুমোদিত প্রভাব থাকে, তাহলে সাধারণ পরিবহন মালিক ও চালকদের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে কীভাবে?