
কে.এম. হাছান
ফরিদগঞ্জ উপজেলায় আছমা আক্তার রিমা (৩০) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয় — পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দিবাগত মধ্যরাতে ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বড়ালি এলাকায় নিজ বাসা থেকে আছমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সকালে বাসায় তার দুই শিশু কন্যা — খাদিজাতুল কোবরা সায়মা (১১) ও ১৩ মাস বয়সী ফাতিয়া হোসেন আয়রাকে একা রেখে স্বামী শরীফ হোসেন রনি পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহতের স্বজনরা দাবি করেন, স্বামীর পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। ঘটনার একদিন আগে এ নিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ার পর তাদের মধ্যে তীব্র ঝগড়া ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
পরিবারের অভিযোগ, এরপরই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি অনুযায়ী: ২০১৪ সালের ১৪ মে প্রেম করে বিয়ে করেন রনি ও রিমা। বিয়ের ৬ মাস পর থেকেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে রনি। গর্ভবতী হওয়ার পর নির্যাতন আরও বাড়ে। প্রায় ১২ বছর ধরে নিয়মিত মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হতো। সংসার ও সন্তানদের ভরণপোষণেও অবহেলা ছিল। নির্যাতনের কারণে রিমা বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন বলেও দাবি করেছেন স্বজনরা।
এ বিষয়ে স্থানীয় থানার এক কর্মকর্তা জানান, “ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং আলামত সংগ্রহের পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
নিহতের পরিবার অভিযুক্ত স্বামী শরীফ হোসেন রনির দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।























