
মেহেদী হাসান রাসেল
০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ : একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বাংলাদেশের চা-শ্রমিক সম্প্রদায়ের প্রথম গ্রাজুয়েট ও শহীদ কমরেড পবন কুমার তাঁতীর স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় তাঁর অসামান্য অবদানকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি না পাওয়াকে দুঃখজনক মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সদস্য, আরপি নিউজ সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।
শহীদ কমরেড পবন কুমার তাঁতীর স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “শহীদ পবন তাঁতী ছিলেন সমাজ পরিবর্তনের সৈনিক। তিনি আর্থসামাজিক ব্যবস্থার আমূল রূপান্তর চেয়েছিলেন। আজ তাঁর আদর্শ ধারণ করে শোষণ–বৈষম্যহীন জনগণের গণতান্ত্রিক, আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সামগ্রিক মুক্তির সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।”
শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গলের রাজঘাট চা বাগানের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে, বাগান পঞ্চায়েত কমিটি, চা–শ্রমিকবৃন্দ, ছাত্র সংগঠন ও স্থানীয় যুবকদের সার্বিক সহযোগিতায় শহীদ পবন তাঁতী স্মৃতি পরিষদ এ স্মরণসভার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাম্পারাই চা বাগানের ‘স্বামী বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সামাজিক সংগঠন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ধনঞ্জয় যাদব, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি ও দৈনিক দেশ বুলেটিনের প্রতিনিধি কমরেড দেওয়ান মাসুকুর রহমান, বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি পলাশ তাঁতী, ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন সাবেক পঞ্চায়েত সভাপতি আশোক ব্যানার্জি, সঞ্চালনা করেন রাজঘাট ছাত্র সংগঠনের উপদেষ্টা রিপন বুনার্জি। স্বাগত বক্তব্য দেন রঞ্জুস তাঁতী। স্মৃতিচারণ করেন শহীদ পবন তাঁতীর নাতি ও রাজঘাট ছাত্র সংগঠনের উপদেষ্টা পল্লব কুমার তাঁতী।
কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান তাঁর বক্তৃতায় একাত্তরের মানবিক বিপর্যয়, গণহত্যা, নারী নিপীড়ন ও জাতির ত্যাগের বিষয়টি গভীরভাবে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, “১৯৭২ সালের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা গ্রহণ করা হয়—যাকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলে জানি। এই চেতনা এসেছে ৩০ লাখ শহীদের ত্যাগের বিনিময়ে। আজ সেই চেতনা পুনরুদ্ধার ও প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।”
তিনি আরো বলেন, শহীদ পবন তাঁতী মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক হিসেবে যেমন ভূমিকা রেখেছেন, তেমনি চা–শ্রমিক সম্প্রদায়ের প্রথম গ্রাজুয়েট হিসেবে শিক্ষা–অধিকার ও সামাজিক মুক্তির সংগ্রামে পথিকৃৎ ছিলেন। তাঁর জীবনাদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে সংগ্রামের প্রেরণা হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শহীদ পবন তাঁতীর স্মৃতি ও অবদানের ঐতিহাসিক স্বীকৃতির জন্য রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান এবং চা–শ্রমিক সম্প্রদায়ের সামাজিক–অর্থনৈতিক অধিকার বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।


























