০৬:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

নবীনগরে সাংবাদিকদের তালাবদ্ধ: অভিযুক্ত নায়েবের ‘শাস্তিমূলক বদলি নাসিরনগরে

  • প্রকাশের সময় : ০৫:১৯:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • 25

নিহারেন্দু চক্রবর্তী,নাসিরনগর , ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সদর ভূমি অফিসে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন সাংবাদিককে কক্ষের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখার ঘটনায় প্রশাসন অবশেষে ব্যবস্থা নিয়েছে। অভিযুক্ত সহকারী তশিলদার (নায়েব) মো. শামসুদ্দোহাকে শাস্তিমূলক বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করে নবীনগর থেকে সরিয়ে নাসিরনগর উপজেলার দুর্গম গোয়ালনগর এলাকায় পদায়ন করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে নবীনগর সদর ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়ভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
অনিয়মের খোঁজে গিয়ে ‘অবরুদ্ধ’ সাংবাদিকরা
ভূমি অফিসে নামজারি (খারিজ) নিয়ে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগের অনুসন্ধানে ঘটনাস্থলে যান তিন গণমাধ্যমকর্মী—বাংলা টিভির পিয়াল হাসান রিয়াজ, গ্রিন টিভির মমিনুল হক রুবেল এবং দৈনিক বাংলাদেশের আলোর মো. অলিউল্লাহ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন নায়েব শামসুদ্দোহা। একপর্যায়ে তিনি এক সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নেন, গালিগালাজ করেন এবং পরে তিন সাংবাদিকসহ কয়েকজন সেবাগ্রহীতাকে একটি কক্ষে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থলে হস্তক্ষেপ করেন। তার নির্দেশে তালা খুলে দেওয়া হয় এবং সাংবাদিকরা মুক্ত হন।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্থানীয় সাংবাদিকরা প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন ও কর্মসূচির ঘোষণা দেন। বিষয়টি দ্রুত জেলা প্রশাসনের নজরে আসে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউএনও মো. মাহমুদুল হাসান বলেন,
“পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের তালাবদ্ধ করে রাখার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

দুর্গম এলাকায় বদলিকে শাস্তি হিসেবে দেখলেও, সচেতন মহলের প্রশ্ন—এ ধরনের গুরুতর ঘটনায় কেবল বদলি যথেষ্ট কি না। সরকারি দপ্তরে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ বারবার উঠলেও, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব নিয়ে আলোচনা আবারও সামনে এলো।

জনপ্রিয়

স্কুল বন্ধ ও অনলাইনে ক্লাসের নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানি সোমবার

নবীনগরে সাংবাদিকদের তালাবদ্ধ: অভিযুক্ত নায়েবের ‘শাস্তিমূলক বদলি নাসিরনগরে

প্রকাশের সময় : ০৫:১৯:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

নিহারেন্দু চক্রবর্তী,নাসিরনগর , ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সদর ভূমি অফিসে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন সাংবাদিককে কক্ষের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখার ঘটনায় প্রশাসন অবশেষে ব্যবস্থা নিয়েছে। অভিযুক্ত সহকারী তশিলদার (নায়েব) মো. শামসুদ্দোহাকে শাস্তিমূলক বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করে নবীনগর থেকে সরিয়ে নাসিরনগর উপজেলার দুর্গম গোয়ালনগর এলাকায় পদায়ন করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে নবীনগর সদর ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়ভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
অনিয়মের খোঁজে গিয়ে ‘অবরুদ্ধ’ সাংবাদিকরা
ভূমি অফিসে নামজারি (খারিজ) নিয়ে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগের অনুসন্ধানে ঘটনাস্থলে যান তিন গণমাধ্যমকর্মী—বাংলা টিভির পিয়াল হাসান রিয়াজ, গ্রিন টিভির মমিনুল হক রুবেল এবং দৈনিক বাংলাদেশের আলোর মো. অলিউল্লাহ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন নায়েব শামসুদ্দোহা। একপর্যায়ে তিনি এক সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নেন, গালিগালাজ করেন এবং পরে তিন সাংবাদিকসহ কয়েকজন সেবাগ্রহীতাকে একটি কক্ষে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থলে হস্তক্ষেপ করেন। তার নির্দেশে তালা খুলে দেওয়া হয় এবং সাংবাদিকরা মুক্ত হন।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্থানীয় সাংবাদিকরা প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন ও কর্মসূচির ঘোষণা দেন। বিষয়টি দ্রুত জেলা প্রশাসনের নজরে আসে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউএনও মো. মাহমুদুল হাসান বলেন,
“পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের তালাবদ্ধ করে রাখার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

দুর্গম এলাকায় বদলিকে শাস্তি হিসেবে দেখলেও, সচেতন মহলের প্রশ্ন—এ ধরনের গুরুতর ঘটনায় কেবল বদলি যথেষ্ট কি না। সরকারি দপ্তরে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ বারবার উঠলেও, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব নিয়ে আলোচনা আবারও সামনে এলো।