
শাকিল খান লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
কুমিল্লার লাকসামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, নির্মাণকাজে বাধা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে শাহাদাত হোসেনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি দরখাস্ত করেছেন মো. আবু বকর নামের এক ব্যক্তি। অভিযোগে থানার নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহাদাত হোসেন।
আদালতে দাখিল করা দরখাস্তের বিবরণ অনুযায়ী, লাকসামের ফুলগাঁও বাজারের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে একটি দোকানের সামনে গত ২৬ আগস্ট নির্মাণকাজ শুরু করেন আবু বকর। এ সময় শাহাদাত হোসেন, মো. হাবিবুর রহমান ও মো. রফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে কাজে বাধা দেন এবং কাজ চালিয়ে যেতে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দরখাস্তে আরও বলা হয়, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আবু বকরকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া জমি দখলের চেষ্টা এবং থানার নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, ফুলগাঁও মৌজার তিনটি দাগে ২৫ দশমিক ৫০ শতক জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। তাঁর দাবি, ওই জমির ১২ দশমিক ৭৫ শতক প্রবাসী জয়নাল আবেদিন ক্রয় করে ভোগদখলে ছিলেন। পরে জমির আরেক অংশীদার রফিকুল ইসলাম তাঁর স্ত্রী আলেয়া বেগমের নামে ১২ দশমিক ৭৫ শতক জমি হেবা দলিল করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি।
এ ঘটনায় আবু বকর কুমিল্লার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৮ নম্বর আমলী আদালতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩৮৫ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ এনে দরখাস্ত দাখিল করেছেন। এতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে। তবে আদালতের আদেশ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে শাহাদাত হোসেন বলেন, তিনি একজন সাধারণ কৃষক এবং জমি কেনাবেচার বিষয়ে কিছুই জানেন না। থানার নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। মামলাটি কেন করা হয়েছে, তা-ও তাঁর জানা নেই বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।





















