০৫:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

‎শাহজাদপুরে স্কুলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন স্কুল শিক্ষিকা

  • প্রকাশের সময় : ০৬:১৯:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 110

‎মোঃ মোসলেম উদ্দিন সিরাজী ‎সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

‎সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে মাটিবাহী ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় অটো ভ্যানে থাকা সাবিনা খাতুন (৪৩) নামে বলদিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার মৃত্যুর ঘটনায় সড়ক অবরোধ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। গত সোমবার (১ডিসেম্বর) বেলা ১১ টা থেকে উপজেলার গাড়াদহ থেকে মোহনপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন তারা।

এতে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। এর আগে, সকাল ১০ টার দিকে অটো ভ্যান যোগে স্কুলে যাওয়ার পথে বেপরোয়া মাটিবাহী ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় শিক্ষিকা সাবিনা খাতুনের ওই স্থানে মৃত্যু হয়েছে। তিনি পার্শ্ববর্তী কায়েমপুর ইউনিয়নের বলদিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন।

সড়ক অবরোধে প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেওয়া ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইমুল ইসলাম ও সামিউল ইসলাম এই হত্যার বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবি করেছেন। স্থানীয় অভিভাবকরা বলেছেন,গাড়াদহ থেকে মোহনপুর আঞ্চলিক সড়কের এলাকায় সম্প্রতি মাটি ব্যবসায়ীদের কারণে ড্রাম ট্রাক চলাচল বেড়েছে।

এতে ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। তাদের দাবি সকাল ৭ টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ওই সড়কে যেন ড্রাম ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়।

এই বিষয়ে বলদিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহীন আলম বলেছেন আজ অর্থাৎ ১ ডিসেম্বর স্কুলে আসার পথে বেপরোয়া ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় আমার স্কুলের সহকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে প্রায় এক শতাধিক শিক্ষার্থীর বেশি শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে।

না জানি কখন কার সড়কে মৃত্যু হয়। এসব ট্রাকের কারণে প্রতিদিনই ছোটোখাটো দুর্ঘটনা ঘটে চলছে একের পর এক। তাই আমরা চাই সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ড্রাম ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এ প্রসঙ্গে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ আসলাম আলী পিপিএম গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন শিক্ষিকার মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা সড়কে গাছ ফেলে যানবহন চলাচল বন্ধ করেছিলো, পরে শাহজাদপুর থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ হাফিজুল ইসলাম সহ পুলিশের একটি চৌখট টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে তারা চলে যায়।

এতে নিহত সাবিনা ইয়াসমিন খাতুনের ছেলে মোঃ শিহাব হোসেনের বয়স আট বছর। ছেলেটা প্রতিদিন মায়ের সাথেই যাতয়াত করতো। ছেলেটা এই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেশীতে পড়ে। এই ছোট ছেলের আহাজারী দেখে সকলের কান্নায় চোখে অশ্রু জড়েছে। নিহত সাবিনা ইয়াসমিন দুই সন্তানের জননী ছিলেন। এসময়ে এই দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেছিলেন। এ ঘটনায় ড্রাম ট্রাকটি থানায় জব্দ করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছেন

জনপ্রিয়

1 Win Kazino: Onlayn Kazino Oynamaq üçün 1 Win Yükləyin

‎শাহজাদপুরে স্কুলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন স্কুল শিক্ষিকা

প্রকাশের সময় : ০৬:১৯:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

‎মোঃ মোসলেম উদ্দিন সিরাজী ‎সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

‎সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে মাটিবাহী ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় অটো ভ্যানে থাকা সাবিনা খাতুন (৪৩) নামে বলদিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার মৃত্যুর ঘটনায় সড়ক অবরোধ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। গত সোমবার (১ডিসেম্বর) বেলা ১১ টা থেকে উপজেলার গাড়াদহ থেকে মোহনপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন তারা।

এতে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। এর আগে, সকাল ১০ টার দিকে অটো ভ্যান যোগে স্কুলে যাওয়ার পথে বেপরোয়া মাটিবাহী ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় শিক্ষিকা সাবিনা খাতুনের ওই স্থানে মৃত্যু হয়েছে। তিনি পার্শ্ববর্তী কায়েমপুর ইউনিয়নের বলদিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন।

সড়ক অবরোধে প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেওয়া ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইমুল ইসলাম ও সামিউল ইসলাম এই হত্যার বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবি করেছেন। স্থানীয় অভিভাবকরা বলেছেন,গাড়াদহ থেকে মোহনপুর আঞ্চলিক সড়কের এলাকায় সম্প্রতি মাটি ব্যবসায়ীদের কারণে ড্রাম ট্রাক চলাচল বেড়েছে।

এতে ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। তাদের দাবি সকাল ৭ টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ওই সড়কে যেন ড্রাম ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়।

এই বিষয়ে বলদিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহীন আলম বলেছেন আজ অর্থাৎ ১ ডিসেম্বর স্কুলে আসার পথে বেপরোয়া ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় আমার স্কুলের সহকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে প্রায় এক শতাধিক শিক্ষার্থীর বেশি শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে।

না জানি কখন কার সড়কে মৃত্যু হয়। এসব ট্রাকের কারণে প্রতিদিনই ছোটোখাটো দুর্ঘটনা ঘটে চলছে একের পর এক। তাই আমরা চাই সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ড্রাম ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এ প্রসঙ্গে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ আসলাম আলী পিপিএম গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন শিক্ষিকার মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা সড়কে গাছ ফেলে যানবহন চলাচল বন্ধ করেছিলো, পরে শাহজাদপুর থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ হাফিজুল ইসলাম সহ পুলিশের একটি চৌখট টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে তারা চলে যায়।

এতে নিহত সাবিনা ইয়াসমিন খাতুনের ছেলে মোঃ শিহাব হোসেনের বয়স আট বছর। ছেলেটা প্রতিদিন মায়ের সাথেই যাতয়াত করতো। ছেলেটা এই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেশীতে পড়ে। এই ছোট ছেলের আহাজারী দেখে সকলের কান্নায় চোখে অশ্রু জড়েছে। নিহত সাবিনা ইয়াসমিন দুই সন্তানের জননী ছিলেন। এসময়ে এই দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেছিলেন। এ ঘটনায় ড্রাম ট্রাকটি থানায় জব্দ করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছেন