
নওগাঁ প্রতিনিধি: সরকার ও বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমে দেশের মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ সহজ শর্তে মৎস্য ঋণ, পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি এবং ক্ষুদ্রঋণ সুবিধা চালু থাকলেও নওগাঁর মান্দা উপজেলায় দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর ধরে নতুন কোনো ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করা হয়নি। ফলে সহজলভ্য এই ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার প্রকৃত মৎস্যজীবী ও মৎস্যচাষিরা।উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও ক্ষেত্র সহকারীদের মাধ্যমে প্রকৃত মৎস্যজীবী এবং মৎস্যচাষিদের মাঝে রাজস্ব ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্রঋণ প্রদান ও আদায় করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় মান্দা উপজেলায় বর্তমানে ব্যাংকে জমা রয়েছে ৯ লাখ ১৮ হাজার টাকারও বেশি।তবে সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর একজন মৎস্যচাষীকে ২২ হাজার ৫০০ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছিল। এরপর থেকে নতুন করে আর কোনো ঋণ বিতরণ করা হয়নি।
মান্দা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রী দীপঙ্কর পাল জানান, “মৎস্যজীবী ও মৎস্যচাষীদের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করা হয়। আমাদের উপজেলায়ও এ কার্যক্রম চালু রয়েছে। বর্তমানে ফান্ডে ৯ লাখ টাকার বেশি অর্থ রয়েছে। তবে পূর্বে বিতরণ করা ঋণের মধ্যে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়া ঋণ আদায় না হওয়ায় নতুন ঋণ বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।”
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মাত্র চারজন ঋণগ্রহীতার কাছে মোট ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ টাকা বকেয়া রয়েছে। অথচ ব্যাংকে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা অলস পড়ে আছে। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে নতুন ঋণ বিতরণ বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মৎস্যজীবী ও চাষিরা।তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত অর্থ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে তারা সহজ শর্তের সরকারি ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে মাছ চাষ সম্প্রসারণ, পুকুর সংস্কার এবং উৎপাদন বৃদ্ধি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।স্থানীয় মৎস্যজীবীদের দাবি, বকেয়া ঋণ আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দ্রুত নতুন ঋণ বিতরণ শুরু করে প্রকৃত মৎস্যজীবী ও চাষিদের সহায়তা নিশ্চিত করা হোক।#




















