০৭:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

মান্দায় নারী শিক্ষককে উত্ত্যক্তের অভি’যোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, কর্তৃপক্ষের শোকজ

  • প্রকাশের সময় : ০৫:৪৯:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • 25

নওগাঁ প্রতিনিধি: আল আমিন নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) জিয়াউর রহমান জিয়ার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। রোববার (২১ জুন) বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের মূল ভবনের সামনে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
এদিকে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়াকে কারণ দর্শানো নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে তাকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মানববন্ধনের আগে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন গোপালপুর বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়ার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরে দ্রুত তার অপসারণের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সহকারী শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি বিদ্যালয়ের একজন নারী শিক্ষককে কুপ্রস্তাব দেওয়া, উত্ত্যক্ত করা এবং যৌন হয়রানির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত হন বলে অভিযোগ ওঠে। কয়েকদিন আগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের সামনেই ভুক্তভোগী শিক্ষকের হাত ধরে টানাহেঁচড়া করার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেন তারা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি আক্তার জাহান সাথী এবং মান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের পর অভিযুক্ত শিক্ষক আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্নভাবে ওই শিক্ষককে হুমকি দিতে থাকেন বলেও মানববন্ধনে দাবি করা হয়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্থানীয় লোকজন ও অভিভাবকেরা প্রতিবাদ জানাতে বিদ্যালয়ের যাওয়ার সংবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক কৌশলে সটকে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বক্তারা বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত অপসারণ করে বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে ভুক্তভোগী শিক্ষক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির নির্দেশনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তাকে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি আক্তার জাহান সাথী বলেন, ‘অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে ওই শিক্ষককে শোকজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি লিখিত জবাব দেওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয়

আজ বিশ্ব বাবা দিবস সকল বাবাদের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা

মান্দায় নারী শিক্ষককে উত্ত্যক্তের অভি’যোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, কর্তৃপক্ষের শোকজ

প্রকাশের সময় : ০৫:৪৯:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

নওগাঁ প্রতিনিধি: আল আমিন নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) জিয়াউর রহমান জিয়ার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। রোববার (২১ জুন) বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের মূল ভবনের সামনে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
এদিকে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়াকে কারণ দর্শানো নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে তাকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মানববন্ধনের আগে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন গোপালপুর বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়ার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরে দ্রুত তার অপসারণের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সহকারী শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি বিদ্যালয়ের একজন নারী শিক্ষককে কুপ্রস্তাব দেওয়া, উত্ত্যক্ত করা এবং যৌন হয়রানির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত হন বলে অভিযোগ ওঠে। কয়েকদিন আগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের সামনেই ভুক্তভোগী শিক্ষকের হাত ধরে টানাহেঁচড়া করার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেন তারা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি আক্তার জাহান সাথী এবং মান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের পর অভিযুক্ত শিক্ষক আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্নভাবে ওই শিক্ষককে হুমকি দিতে থাকেন বলেও মানববন্ধনে দাবি করা হয়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্থানীয় লোকজন ও অভিভাবকেরা প্রতিবাদ জানাতে বিদ্যালয়ের যাওয়ার সংবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক কৌশলে সটকে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বক্তারা বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত অপসারণ করে বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে ভুক্তভোগী শিক্ষক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির নির্দেশনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তাকে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি আক্তার জাহান সাথী বলেন, ‘অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে ওই শিক্ষককে শোকজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি লিখিত জবাব দেওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।